গাইবান্ধায় ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জমিতে ইপিজেড দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় ছাত্র জনতা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে ২ ঘন্টাব্যাপী উপজেলার চারমাথা এলাকায় এ অবরোধ পালন করে তারা।

এসময় মহাসড়কের উভয়পাশে তিন-চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দূরপাল্লার যানবাহন আটকে থাকে। খবর পেয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইপিজেড বাস্তবায়নের আশ্বাস এবং বিষয়টি সরকারকে জানানোর প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এই কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন, গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এমএ মতিন মোল্লা, সংগঠক  রফিকুল ইসলাম,  মোকছেদ ইসলাম ও ডিপটি প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আবু রায়হান,  আবদুর রাজ্জাক ও আসলাম মিয়া, সাঁওতাল নেতা মেখায়েল বেসরা মাইকেল প্রমুখ।

বক্তারা চিনিকলের জমিতে ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ইপিজেডের নাম দেওয়া হয় ‘রংপুর ইপিজেড’। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) কর্তৃপক্ষকে ইপিজেড বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মোট জমির মধ্যে ৪৫০ একর জমি বেপজাকে বুঝিয়ে দেয় চিনিকল কর্তৃপক্ষ। ইপিজেড হলে দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সেখানে সাঁওতালরা অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু একটি মহল এর বিরোধিতা করছে। তারাই চিনিকলের জমি অবৈধভাবে দখল করে আছেন।

এদিকে, গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটামোড় এলাকায় ছয় দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে সাঁওতালদের একাংশ। বিকেল ৩টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার দাবিগুলো সরকারকে জানানোর প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া সাঁওতালরা। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দাবিগুলো হলো- গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের হুকুম দখল করা সম্পত্তি ফেরত, পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী সাঁওতাল পল্লিতে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ, ২০০৪ সালে সুগার মিল বন্ধের পর প্রভাবশালীদের মাঝে লিজের নামে যে অর্থ-আত্মসাৎ ও দুর্নীতি হয়েছে সেই দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিতকরণ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনসম্মত উপায়ে শাস্তি নিশ্চিত।

প্রসঙ্গত, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৪২ একর জমি আছে। এই জমিতে উৎপাদিত আখ রংপুর চিনিকলে মাড়াই হতো। চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ হলে সাঁওতালরা দফায় দফায় এই জমি দখল করেন। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব জমিতে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ পরিস্থিতিতে সরকার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রংপুর চিনিকলের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত