দ.কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন আবারও গ্রেপ্তার

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ০৫:২৯ এএম

সামরিক আইন জারির জেরে আবারও গ্রেপ্তার হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইউল। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির প্রমাণাদি মুছে ফেলতে পারেন এই শঙ্কার কারণে এবার তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এর মধ্য দিয়ে সামরিক আইন জারির জেরে এ নিয়ে দুবার গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইউল। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জেরে বিচার চলা ৬৪ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ ইউন সুক-ইউলকে এর আগেও একবার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। ওই সময় তিনি ৫২ দিন জেলে ছিলেন।

গত ডিসেম্বরে ইউন দক্ষিণ কোরিয়াকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেন। ওই সময় আইনপ্রণেতাদের সামরিক আইনের ঘোষণার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য সংসদে সেনা পাঠান তিনি। এর জেরে গত জানুয়ারিতে জেলে যাওয়ার পর মার্চে মুক্তি পান সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। এরপর গত এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত ইউনকে তার কার্যালয় থেকে অব্যাহতি দেয়। এরপর দেশটিতে নতুন করে নির্বাচনের পথ তৈরি হয়, গত জুনে যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং ইউনের সামরিক আইন প্রয়োগের চেষ্টা এবং তার প্রশাসন ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত কার্যক্রম অনুমোদন করে।

গত ৩ ডিসেম্বর দেশে সামরিক আইন জারি করার মধ্য দিয়ে নিজের পতনের রাস্তা তৈরি করেন ইউন। অবশ্য বিরোধীদের চাপে সামরিক আইন জারির মাত্র ছয় ঘণ্টার মুখে তা প্রত্যাহারে বাধ্য হন তিনি। এর কিছুদিন পরই তার অভিশংসন প্রস্তাব অনুমোদন করে দক্ষিণ কোরীয় পার্লামেন্ট। তিনি পরে বলেন, তার কখনোই জরুরি সামরিক শাসন পুরোপুরি জারি করার ইচ্ছা ছিল না এবং বিষয়টির প্রভাবকে হালকাভাবে দেখিয়ে দাবি করেন এতে কেউ আহত হননি।

আপাতত তাকে ২০ দিন পর্যন্ত আটক রাখা যাবে। গত বুধবার গ্রেপ্তারি শুনানিতে ইউনের আইনজীবীরা এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, ইউন এখন ক্ষমতায় নেই, তার হাতে কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও নেই। তারপরও এই পদক্ষেপ অর্থহীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত