পরামর্শ

পড়ে যাওয়ার পরও উঠে দাঁড়ানোর নাম সফলতা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ০৫:৪৪ এএম

গতকাল ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছরের পরীক্ষাটি ব্যতিক্রম এই অর্থে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো বড় একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে অন্যদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নিয়েছিল ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরাও। এর ফলে দেশে আমূল পরিবর্তন ঘটে। যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের মনোজগতে। অনেক শিক্ষার্থীই আশানুরূপ প্রস্তুতি নিতে পারেনি। তারপরও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সাহস দেখিয়েছে ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থী। তাদের সবাইকে প্রথমেই অভিনন্দন জানাচ্ছি! পরীক্ষা মানে চ্যালেঞ্জ, এই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করার মানেই মানসিকভাবে বিজয়ী হওয়া। তারপর এক এক করে বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সব পুলসিরাত পার করে শেষ করে তারা এসএসসি পরীক্ষা। এটি তাদের আরেকটি সফলতা। এবারের পরীক্ষার মূল্যায়নটি প্রথাগত নিয়মে হয়নি। ফল প্রস্তুত হয়েছে বাস্তব মূল্যায়ন নীতির ভিত্তিতে। এর ফলে মাত্র দুই মাসে মাথায় ফল প্রকাশ করা গেছে। প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট কৃতকার্য হয়েছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন শিক্ষার্থী এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এবারে কৃতকার্যের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরে বাবা-মার তিরস্কার, চারপাশের নানা কটুকথা ও দুঃখে-অভিমানে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে দেখি। এটি ঘটে জীবন ও পরীক্ষা সম্পর্কে ভুল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। আপাতদৃষ্টিতে এই ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থীকে আমি অকৃতকার্য শিক্ষার্থী বলতে নারাজ। কারণ, পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপের কয়েকটি তারা কৃতকার্য হয়েছে। তারা প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে পাস করে এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে। নানাভাবে প্রস্তুতিতে বিঘœ ঘটলেও তারা সাহস করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এসবই সফলতা। তাহলে সর্বশেষ ধাপে অকৃতকার্য হলে কি তাকে অকৃতকার্য বলা যাবে? উত্তর হলো, না। পরের বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলে আশা করা যায় তারা কৃতকার্য হবে। তবে সমাজের চোখ রাঙানিতে তারা কেন কোনো চরম সিদ্ধান্ত নিতে যাবে? নিশ্চয়ই তারা এমন ‘বোকা’ নয়। তারা সাহসী বলেই প্রস্তুতিতে নানা বিঘœ ঘটার পরও সাহস করে অংশ নিয়েছিল আর তারা সাহসী বলেই সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের মনে রাখতে হবে, সফলতা হলো চলার পথে পড়ে যাওয়ার পরও উঠে দাঁড়ানোর নাম। কারণ না পড়ে কেউ হাঁটতে শেখে না।

এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে, কৃতকার্য হলেও আশানুরূপ ফল লাভ করতে পারেনি। তাদেরও মন খারাপ করার দরকার নেই। এটি জীবনের প্রথম সনদ পরীক্ষা। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নাও। এই ঘাটতি সহজেই পূরণ করে নিতে পারবে একাগ্রতা ও পরিশ্রম দ্বারা।

যারা ফল নিয়ে সন্তুষ্ট, তারা যে উদযাপনে ব্যস্ত তাতে সন্দেহ নেই। সে অধিকার তাদের আছে। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের আশানুরূপ ফল পেলে মন্দ লাগে না। কিন্তু উদযাপনে গা ভাসিয়ে দিলে চলবে না। উৎসব শেষে কোন কলেজে ভর্তি হতে চাও ঠিক করো। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করো। সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করো।

তোমাদের সবাইকে অভিনন্দন!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত