ইংলিশ ক্লাব ফরেস্টে যাচ্ছেন ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ‘মনস্টার’

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ০৯:০০ পিএম

সান্তোস—নেইমারের শৈশবের ক্লাব। সেই ক্লাবেরই একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন আরও এক প্রতিভাবান ফুটবলার, যিনি ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগের ভবিষ্যৎ বলে। নাম জাইর কুনহা। বয়স মাত্র কুড়ি। তবু শারীরিক গড়ন, খেলার বুদ্ধিমত্তা ও উপস্থিতি দেখে তাকে ডাকা হচ্ছে ‘নতুন থিয়াগো সিলভা’ নামে। যিনি এবার পাড়ি জমাচ্ছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে।

৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই সেন্টার-ব্যাক শুধু দীর্ঘদেহী বলেই নয়, রক্ষণে নেতৃত্ব, আর পায়ে নিখুঁত পাসিং—এই সব মিলিয়ে হয়ে উঠেছেন আধুনিক ফুটবলের পরিপূর্ণ ডিফেন্ডার। ইতিমধ্যেই ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলেছেন নিয়মিত, ক্লাব বিশ্বকাপেও রেখেছেন ছাপ।

জাইর উঠে এসেছেন সান্তোস থেকে। যে ক্লাব থেকে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমার জুনিয়রও। প্রথমে সেখানেই পেশাদার অভিষেক, এরপর সংক্ষিপ্ত এক অধ্যায়ে খেলেছেন বোটাফোগোতে। কিন্তু ব্রাজিলই যেন তার জন্য ছোট হয়ে উঠছিল।  তাই এবার ইংলিশ ক্লাব নটিংহ্যাম ফরেস্ট-এর ডাকে সাড়া দিয়েছেন এই প্রতিভাবান রক্ষণভাগের খেলোয়াড়।

নটিংহ্যাম ফরেস্টের ক্লাব ও ইংলিশ মিডিয়া জাইরকে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। কেউ তাকে বলছে ‘দানবীয় ব্রাজিলিয়ান সেন্টার-ব্যাক’, কেউবা বলছে ‘ব্রাজিল রক্ষণভাগের ভবিষ্যৎ নেতা’। প্রিমিয়ার লিগের মতো শারীরিক ফুটবলের জন্য তার উচ্চতা ও রক্ষণশক্তি বড় সম্পদ হতে পারে বলেই মনে করছে ক্লাবটি।

পাঁচ বছরের চুক্তিতে ফরেস্টে যোগ দিচ্ছেন জাইর, যেখানে তিনি খেলবেন প্রিমিয়ার লিগ ও ইউরোপা কনফারেন্স লিগে। ফরেস্ট তাকে দলে নিচ্ছে প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি। পাঁচ বছরের চুক্তিতে তিনি যোগ দিচ্ছেন ক্লাবটিতে, যেখানে খেলবেন প্রিমিয়ার লিগ ও ইউরোপা কনফারেন্স লিগে।

প্রিমিয়ার লিগের শারীরিক ফুটবলের জন্য উপযুক্ত গড়ন, বলের প্রতি পড়াশোনা আর রক্ষণ সামলানোর শিল্পটা জাইরের রপ্ত। ম্যাচে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৬টির বেশি ক্লিয়ারেন্স ও ৮৫ শতাংশ এয়ারিয়াল ডুয়েল জেতার মতো পরিসংখ্যানই জানান দেয় তার কার্যকারিতা।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল রক্ষণভাগ থেকে তেমন কোনো নতুন নাম আলোচনায় আসেনি। এই প্রেক্ষাপটে জাইর কুনহার উত্থান ব্রাজিলের জন্য বিশেষ গুরুত্ববাহী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ‘জাইর হচ্ছেন থিয়াগো সিলভার ছায়া, এবং ব্রাজিল রক্ষণভাগের পরবর্তী স্তম্ভ।’

ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, ফরেস্ট তাকে রক্ষণভাগের ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই দলে ভিড়িয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের শারীরিক ফুটবলের জন্য উপযুক্ত গড়ন, বলের প্রতি পড়াশোনা আর রক্ষণ সামলানোর শিল্পটা তিনি আয়ত্ত করেছেন স্বভাবগতভাবেই। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল রক্ষণভাগ থেকে তেমন কোনো নতুন নাম আলোচনায় আসেনি। এই প্রেক্ষাপটে জাইর কুনহার উত্থান গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ‘জাইর হচ্ছেন থিয়াগো সিলভার ছায়া, এবং ভবিষ্যতের মূল স্তম্ভ’।

দেখার বিষয়, সান্তোস থেকে নেইমারের পর আরেকটি বিশ্বমানের ফুটবলারের উত্থান এবার কি সত্যিই ঘটছে? মাঠের পারফরম্যান্সই দেবে তার উত্তর। তবে এখনই বলা যায়—নতুন থিয়াগো সিলভাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল, আর বাস্তবতা গড়ার কাজ শুরু হয়েছে ইংল্যান্ডেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত