বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে দুই মাস আগে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান উড়ছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমছে’ শিরোনামে একটি কার্টুনসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মার্চ পর্যন্ত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) চিত্র তুলে ধরা হয়। গত বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনের জবাবে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি মন্তব্য প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এফডিআইয়ের চিত্র প্রতিবেদনের তথ্যের বিপরীত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নিট বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) হয়েছে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অক্টোবর থেকে হিসাব করলে, গত ছয় মাসে এফডিআই এসেছে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা আগের সরকারের শেষ ছয় মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।’
চৌধুরী আশিক আরও বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এ বছরের এফডিআই বৃদ্ধির পেছনে আমাদের ভূমিকা সীমিত। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া ছিল। তবে প্রক্রিয়া কিছুটা গতিশীল হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিডা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এখন বিদেশি ঋণ যাচাই ও অনুমোদনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করছে।’
কার্টুনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন ও কার্টুন পড়ে মনে হয়, আমরা শুধু বিমান থেকে ঝাঁপ দিই, সামিটে যাই, আর প্রেজেন্টেশন দিই। এর বাইরে কিছুই করি না। ফলে বিনিয়োগ ধ্বংস, অর্থনীতি ধ্বংস, দেশ ধ্বংস এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বা প্রস্তাবিত তথ্য নিয়ে এমন নেতিবাচক প্রতিবেদন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে তথ্য নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে। এর ওপর এ ধরনের অপসাংবাদিকতা মানুষকে আরও বিভ্রান্ত করে। গত আট মাসে আমি অনেক দক্ষ সাংবাদিকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা সরাসরি প্রশ্ন করেন এবং প্রতিবেদনের আগে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেন। অন্যরাও যদি তাদের মতো হতেন, তাহলে অনেক ভালো হতো।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ মে ওই দৈনিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ৮৬১ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নিট এফডিআই প্রবাহ ২৬ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক অর্থনৈতিক সূচক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মূলধনি যন্ত্র আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৫২১ মিলিয়ন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ২ হাজার ১৩৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মূলধনি যন্ত্র আমদানি ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে।
বিডার চেয়ারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব তথ্যের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং প্রতিবেদনে তার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার এই পোস্ট ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। কমপক্ষে ২৭ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী তার মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ১ হাজার ৫০০-এর বেশি মন্তব্য এসেছে এবং পোস্টটি ২ হাজারবার শেয়ার করা হয়েছে।
