পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফেনীর পরশুরামে ব্যবসায়ী সুমন হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
পরশুরাম উত্তর বাজারের ব্যবসায়ী সুমনের অভিযোগ- বকেয়া টাকা চাওয়াতে দক্ষিণ কোলাপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. সায়েম ও তার ভাতিজা ফয়সালসহ কয়েকজন তাকে বেদড়ক মারধর করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, দোকানে ঢুকে মো. সুমনকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন মো. সায়েম, তার ভাতিজা মো. ফয়সালসহ কয়েকজন। একপর্যায়ে দোকানির পরনের টি-শার্টও টেনে খুলে ফেলেন তারা। দোকানিকে এ সময় কিল–ঘুষি ও চড় দিতেও দেখা যায় তাদের।
জানতে চাইলে দোকানি মো. সুমন জানান, গত বছর বন্যার সময় তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ত্রিপাল নিয়ে যান মো. সায়েম। ১০ হাজার টাকা পরে পরিশোধ করলেও দীর্ঘদিনেও বাকি ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে বিষয়টি তিনি সায়েমের স্বজন ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকে অবহিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে সায়েম মারধর করেছেন।
ভুক্তভোগী সুমন হোসেন জানান, বর্তমানে তিনি পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় সম্পৃক্ত যুবদলের ওয়ার্ড সভাপতি মো. সায়েমকে গত ২৫ জুন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে পরশুরাম পৌর যুবদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পরশুরাম পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তফা খোকন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিছফাকুছ ছামাদ রনি ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আবছার চৌধুরী কমল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফেনী জেলা যুবদলের নির্দেশক্রমে পরশুরাম পৌর যুবদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. সায়েমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. সায়েমের মুঠোফোনে বার বার কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরশুরাম পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তফা খোকন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সায়েমকে গত ২৫ জুন অর্থাৎ ১৭ দিন আগে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে দোকানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বকেয়া টাকা বাজার কমিটির উদ্যোগে এরই মধ্যে আদায় হয়েছে। তাই দোকানি থানায় কোনো অভিযোগ দিচ্ছেন না। ওই দোকানিকে যেহেতু হুমকি দেওয়া হয়েছে, সে কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করে রাখা হয়েছে।
সোয়ানটেককে দিয়েও ফিরিয়ে নেয়া হলো উইম্বলডনের থালা!
চাঁদা না পেয়ে পল্লবীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলি ও হামলা ঘটনায় গ্রেফতার ৩