ফেনীতে বেড়িবাঁধের মাটি-বালু লুট

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ভারত সীমান্তবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বল্লামুখা বেড়িবাঁধের ওপর থেকে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু কেটে পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর এলাকায়। ভিডিওতে দেখা যায়, দিনের আলোতে কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধের ওপর থেকে মাটি ও বালু কেটে পিকআপে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বল্লামুখা বেড়িবাঁধের মাটি ও বালু কাটার ঘটনার বিষয় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন- নিজ কালিকাপুর এলাকার কবির আহম্মদ, শাহ আলম, বাসপদুয়ার মিলন ও স্থানীয় ইয়াকুব এই মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত। তবে কবির আহাম্মদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং বাঁধের মাটি বা বালু কাটার সঙ্গে জড়িত নন।

এদিকে, পরশুরামে সম্প্রতি কৃষিজমি ও বেড়িবাঁধের চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। প্রতিদিন এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়। পরে ২০ থেকে ৩০টি পিকআপে করে সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। 

বাঁধের ওপর থেকে মাটি ও বালু পরিবহনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারতের অংশ থেকে উত্তোলিত বালু আগে বাঁধের ওপর রাখা হয়েছিল, সেখান থেকেই কয়েকদিন ধরে পিকআপে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। কালিকাপুর এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে শাহ আলম নামের একজনকে আটক করে উপজেলা পরিষদে নেওয়া হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা সরেজমিন তদন্ত করে দেখেছি। তিনি বলেন, বর্তমানে ওই বাঁধের কোন ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে , স্থানীয় কিছু লোক অন্য জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করে বাঁধের উপর রেখেছিল, সে বালু কেটে নিয়ে গেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরশুরাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম. সাফায়াত আখতার নূর জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেনীর জেলা মনিরা হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় কিছু লোকজন বাঁধের তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে বাঁধের উপর রেখেছিল। সেই বালু পিকআপ ভর্তি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসায় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বলামুখা বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন তাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩ কোটি টাকা খরচ করে গুরুত্বপূর্ণ এবাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত