জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘নোঙর’ নামে পরিচিত নরসিংদীগামী বাসটি একাধিক সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বাসটির চাকা বারবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ধারণক্ষমতার অনেক বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন এতে যাতায়াত করেন, যা যাত্রাপথকে করে তুলেছে বিপজ্জনক। বারবার এমন পরিস্থিতির কথা জানানো হলেও প্রশাসনের নজরদারিতে ঘাটতির অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার সকালে নরসিংদী থেকে ক্যাম্পাসমুখী বাসটি ছাড়ার সময় দেখা যায়, বাসের সামনের একটি চাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, আগেও বাসটির একাধিক চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল—কোথাও রাবার উঠে গেছে, কোথাও ভেতরের তার বেরিয়ে এসেছে। এ অবস্থাতেই বাসটি প্রতিদিন নরসিংদী-জবি রুটে চলাচল করছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এই বাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। তবে সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও রবিবার সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০ থেকে ১৬৫ জনে। ফলে নিয়মিতই বাসের ধারণক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রী এতে ওঠেন। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও রবিবার বাসের অবস্থা হয়ে ওঠে ভয়াবহ—দাঁড়ানোর জায়গাও থাকেনা। এতে চালক যেমন চাপের মুখে পড়েন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও পড়েন নিরাপত্তাহীনতায়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই বাসে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো সমস্যা দেখা দেয়। কখনও চাকা নষ্ট হয়, কখনও তুল চুরি যায়। বাসে ভিড় এতটাই থাকে যে দাঁড়ানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নষ্ট চাকা ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ চালকের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি যাত্রীদের জীবনকেও করে তুলছে অনিরাপদ।
দর্শন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিল বলেন, “আমাদের ‘নোঙর’ বাস সপ্তাহে ২-৩ বার চাকা নষ্ট হয়। আমাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ, যেকোনো সময় চাকা খুলে যেতে পারে। প্রতি রবিবারে বাস বসে যায়, তখন আমাদের বাস ঠেলতে হয়। আমরা কি জগন্নাথে পড়তে আসছি, না বাস ঠেলতে? আমরা প্রতিদিন ৮০-১০০ জন নিয়মিত যাতায়াত করি। আমাদের নিয়ে প্রশাসনের কোনো নজর নেই। প্রতিদিন অনেকের পরীক্ষা থাকে, ক্লাস মিস হয়, কিন্তু প্রশাসনের তা দেখার যেন সময় নেই। বাসই আমাদের সব, অথচ তার প্রতিই এত অবহেলা কেন?”
বাংলা বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রেশমী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ‘নোঙর’ বাসের চাকায় সমস্যা চলছে। অনেক সময় ক্লাস বা পরীক্ষায় সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারি না। শিক্ষার্থীর তুলনায় সিট সংখ্যা কম। ৩-৪ ঘণ্টার রাস্তা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর।”
বাসটির দায়িত্বে থাকা ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজ জানান, “বাসের চারটি চাকারই সমস্যা আছে। বৃষ্টির দিনে চলার মতো চাকা নেই। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় চারটি চাকার জন্য রিকুইজিশন দিয়েছিলাম। তখন বলা হয়েছিল নতুন চাকা আসলে দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো নতুন চাকার ব্যবস্থা হয়নি।”
বাস চালক গিয়াসউদ্দিন বলেন, “বাসটির দুটি চাকা পুরোপুরি ক্ষয় হয়ে গেছে। এই অবস্থায় বাস চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, “গাড়ির চাকা গুলো ৫-৬ বছর আগে কেনা হয়েছিল। এখন সবগুলোই নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এগুলো মেরামতের চেষ্টা করছি।”
একইসঙ্গে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বহনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নরসিংদী থেকে একটি বাসই আসে। গাড়ি পরিবর্তন করে দিতে পারি, আরেকটি বাস দেওয়ার বিষয়টি আমরা চিন্তা করছি। দেখা যাক কী করা যায়।”
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন—নিরাপদ যাতায়াত কি প্রশাসনের নিশ্চয়তার বাইরে? এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয় কি না।
গণভবনে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
জগন্নাথ হলের ভবন থেকে পড়ে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
চানখাঁরপুলে আনাসসহ ৬ জনকে হত্যা: বিচার শুরুর আদেশ আজ