এলএ শাখার সেই চেইনম্যান নজরুল  ও তার স্ত্রীসহ সাতজনের বিচার শুরু

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩২ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার আলোচিত সেই চেইনম্যান (বরখাস্ত) নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী, শ্যালিকা, দোকান কর্মচারীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই)  চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ  দেন।

নজরুল ছাড়া বাকি ছয় আসামি হলেন নজরুলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, শ্যালিকা  কোহিনুর আক্তার, জামাল উদ্দিন, শামসুন নাহার চৌধুরী ও শামসুল আলম এবং  দোকান কর্মচারী শাহাদাত হোসেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাহেদ কবির বলেন, দুর্নীতির মামলায় নজরুল, স্ত্রীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। নজরুল ও তার স্ত্রীর ১১ কোটি ২১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক অভিযোগপত্র দিয়েছে।  

আসামিদের মধ্যে নজরুল ছাড়া বাকি ছয়জন পলাতক। আগামী ধার্য দিন সাক্ষ্য শুরু হবে। গত বছরের (২০২৪) ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম। 

এর আগে ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা ৯ কোটি ৭৭ লাখ, ৩৫ হাজার ৯৭৬ টাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন এবং ৩ কোটি ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চেইনম্যান নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক, সজেকা, চট্টগ্রাম-২ এর সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। 

দুদক জানায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সে স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকানে দুদকের হাতে ধরা পড়ার পর নজরুলের কাছে পাওয়া যায় ৯১ লাখ টাকার চেক ও নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নজরুল তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের নামে নগরের জিইসি ওআর নিজাম রোড এলাকায় ২ হাজার ৭০ বর্গফুটের ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি এবং একই এলাকায় ১ হাজার ৬২০ বর্গফুটের ১ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার মোট দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। নজরুলের নামে গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীতে রয়েছে ৮২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা দামের একটি তিনতলা বাড়ি। নগরের ষোল শহর এলাকার চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় ৮৫ লাখ টাকা দামের একটি, একই তলায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার আরেকটি, একই মার্কেটের প্রথম তলায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আরেকটিসহ তিনটি দোকান রয়েছে নজরুল ও তার স্ত্রীর নামে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে সাড়ে ২২ লাখ টাকার একটি প্রাইভেট কার রয়েছে। নজরুলের শ্যালিকা কোহিনুর আক্তারের ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, দোকান কর্মচারী শাহাদাত হোসেনের হিসাবে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আত্মীয় শামসুল আলমের হিসাবে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, শামসুন নাহারের হিসাবে ৩ কোটি টাকা ও জামাল উদ্দিনের হিসাবে ৭১ লাখ ২২ হাজার টাকার তথ্য পায় দুদক। অথচ কোহিনুর ও শামসুন নাহার গৃহিণী। অন্যরা ব্যবসায়ী দাবি করলেও তাদের ব্যবসার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি দুদককে। জানা গেছে, এই টাকা বিভিন্ন সময়ে নজরুল ইসলাম তার আত্মীয়স্বজনের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, নজরুলের বাবা মৃত আলী আহমদ ছিলেন সাধারণ একজন কৃষক। পৈতৃক সূত্রে নজরুল কোনো সম্পত্তি পাননি। তার দুই ছেলে। বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম বর্তমানে লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে চট্টগ্রাম নগরের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। ১৯৯৪ সালের ২৪ আগস্ট চেইনম্যান পদে চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ১৬৭৬ টাকা বেতনে চাকুরিতে যোগদান করেন। সবশেষ ২০১৯ সালে সর্বসাকুল্যে ২৩ হাজার ১৫০টাকা বেতন উত্তেলন করেন।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, নজরুলের স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন গৃহিণী। স্বামীর দুর্ণীতির টাকায় তার নামে নগরের ও আর নিজাম রোডের ৩ নম্বর লেইনে ‘জুমাইরা পয়েন্ট’ ভবন থেকে ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর কেনা হয়েছে ২০৭০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট (৪০৪ নম্বর)। একই এলাকায় অবস্থিত ‘সানমার গ্লোব গার্ডেন’ থেকে ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি কেনা হয় ১৬২০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, ২০০২ সালে প্রায় ৩১ শতক জমি কেনা হয় হাটহাজারী থেকে। 

তার (আনোয়ারা বেগম) নামে নগরের খুলশি, পাঁচলাইশ ও জেলার হাটহাজারী থানা এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। এছাড়া নগরের চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স থেকে স্ত্রীর আনোয়ারার নামে কেনা হয় তিনটি দোকান। সেগুলো হলো- দোকান নম্বর ২২, ৩০ ও ৩৭।  নজরুল পরিবার নিয়ে থাকেন নগরের ও আর নিজাম রোড এলাকায় জুমাইরা পয়েন্ট নামের বহুতল ভবনের ৪০৪ ফ্ল্যাটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত