পাওয়ার প্লেতে সাফল্যে এগিয়ে পেসাররা, স্পিনারদের অবদান কতটুকু?

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ১২:৪২ পিএম

টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রথম ছয় ওভার চলে পাওয়ার প্লে, এ সময়ে মাত্র দুজন ফিল্ডার থাকে ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে। তাই ব্যাটসম্যানরা থাকেন আগ্রাসী, শুরুতেই দ্রুত কিছু রান তুলে ফেললে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাটাও যে বেড়ে যায়। বোলারদের জন্য এ সময়ে বল করাটাও বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন বলের সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারলে সেটাই হতে পারে বড় অস্ত্র।

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত ১৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, জিতেছে ৬ ম্যাচে আর হার ৯ ম্যাচে। এই ১৫ ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের ৩০টি উইকেট নিয়েছে, যার ভেতর ১৭টি নিয়েছেন পেসাররা আর স্পিনাররা নিয়েছেন ১০টি, ৩টি উইকেট এসেছে রান-আউট থেকে।

এই ১৫ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ২৯৭ রানের পাহাড় যেমন গড়েছে, তেমনি প্রতিপক্ষকে ৯৪ রানে গুটিয়েও দিয়েছে। যে ছয়টি ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে, তার প্রতিটিতেই পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পেরেছিল বাংলাদেশ, বেশিরভাগ সময়েই শুরুতে উইকেট এনে দিয়েছিলেন একজন পেসার।

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা বোলারদের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো, সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে দুই ম্যাচেই ভারত ২০০ ছাড়ানো দলীয় ইনিংস দাঁড় করায়। হায়দরাবাদে তো ৩ রানের জন্য ৩০০ রান হয়নি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। এই সিরিজে খেলা ৩ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম সাকিব ও তাসকিন আহমেদ কেউই পাওয়ার প্লেতে একাধিক উইকেট নিতে পারেননি।

সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তাসকিন। তিন ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন কিংকে আউট করেছেন তাসকিন, এই তিন ম্যাচে পাওয়ার প্লেতেই তাসকিনের চার উইকেট। শুরুতেই ক্যারিবীয়দের ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পেরেছেন তাসকিন, যে সুযোগে স্পিনের ফাঁসে আটকে দেওয়ার সুযোগটা পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান।

চলতি বছরে খেলা প্রথম টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ জয় পায় আর আমিরাতের বিপক্ষে। শারজায় ১৯১ রানের পুঁজি বাংলাদেশ বাঁচিয়ে ফেলে পাওয়ার প্লেতে দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান সাকিব দুটো উইকেট তুলে নেওয়ায়। পরের ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেটই নিতে পারেননি বোলাররা, শেষ ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে শরিফুল ইসলাম নেন এক উইকেট। ফল, দুই ম্যাচেই হেরে বাংলাদেশের সিরিজ হার।

এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি-টোয়েন্টির সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে শরিফুলের এক উইকেট, বাকি দুটো ম্যাচে কোনো বোলারের উইকেট নেই।

সবশেষ ল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটাতেও পাওয়ার প্লেতে শরিফুল ইসলামের একটি উইকেটের বাইরে পেসারদের সাফল্য নেই। পরের ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে পেসারদের তিন উইকেট, শরিফুলের জোড়া শিকারের সঙ্গে সাইফ উদ্দিনের একটি। ফল, লঙ্কানদের ৯৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশের সিরিজে সমতা ফেরানো। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শেখ মেহেদি ঘূর্ণিতে বাজিমাত করলেও শুরুতেই সাফল্য এনে দিয়েছিলেন শরিফুলই।

বাংলাদেশ দলের সাবেক পেসার ও বর্তমানে হাই-পারফরম্যান্স দলের বোলিং কোচ তারেক আজিজও মনে করেন, নতুন বলে উইকেট এনে দেওয়ার জন্য শরিফুলই ‘বেস্ট চয়েস’, ‘পাওয়ার প্লে’তে উইকেট লাগবেই। পাওয়ার প্লেতে উইকেট নিতেই হবে, এতে যদি বাড়তি খানিকটা রান খরচ হয় তারপরও। কারণ এতে করে প্রতিপক্ষের মারকুটে দু-এজন ব্যাটসম্যানকে দ্রুত আউট করা সম্ভব হবে। ফলে তাদের বড় রান করার সম্ভাবনাটাও কমে আসবে।'

বাংলাদেশের হয়ে গত ১৫ ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে বল করেছেন ছয়জন বোলার। মোস্তাফিজ, তাসকিন, শরিফুল, সাইফ উদ্দিন, হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান সাকিব। চোট, ব্যক্তিগত কারণসহ নানা বাস্তবতায় একটা নিয়মিত বোলিং আক্রমণ দাঁড় করাতে পারেনি বাংলাদেশ। তারেক মনে করেন, এটা হওয়া উচিত নয়, ‘বিশ্বের সব দলেই একটা পেস ইউনিট থাকে, যেখানে প্রত্যেক বোলারই জানে কার কাজটা কী। আমাদের এখানে একটা বোলিং ইউনিট নানা কারণেই নিয়মিত খেলতে পারছে না, অনেক অদলবদল থাকছে। ফিট থাকলে তাসকিন, শরিফুল, মোস্তাফিজ হতে পারে আমাদের সেরা সমন্বয়। নতুন বলে উইকেট নেওয়ার জন্য শরিফুলের বোলিংটাই সেরা। এরপর তাসকিন।’

পরিসংখ্যানও তারেকের পক্ষেই রায় দেয়। শরিফুল ও তাসকিন পাওয়ার প্লেতে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট করে, মোস্তাফিজ নিয়েছেন তিনটি।

উইকেট যেমনই হোক, প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে রাখতে পাওয়ার প্লেতে উইকেট লাগবেই। কারণ ২০ ওভারের খেলায় বেশিরভাগ সময় শুরুর ছয় ওভারেই ঠিক হয়ে যায়, কোন দল জিততে যাচ্ছে আর কোন দল হারছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত