‘সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তুলতে পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠা’

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫১ পিএম

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, সরল রৈখিক ও প্রশস্ত চ্যানেল, বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দেশের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার লক্ষ্যে পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রথম সপ্তাহে টার্মিনাল অপারেশনাল সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তি বান্ধব অটোমেটেড অপারেশন ও স্মার্ট গ্রাহক সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

রবিবার সকাল ১০টায় কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাস মিলনায়তনে ‘পায়রা বন্দরের মাস্টারপ্ল্যান’ সম্পর্কিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট সমৃদ্ধ ৬৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি, তিন লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড, দশ হাজার বর্গমিটার আধুনিক সিএফএস, সুপ্রশস্ত ও সরল রৈখিক চ্যানেলে নিরাপদ নেভিগেশন সুবিধা রয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন বোঝাই কার্গো ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট প্যানামেক্স আকৃতির জাহাজ চলাচলের সুবিধা রয়েছে। ৩০০০-৩৫০০ টিইউএস কন্টেইনার সুবিধাসহ জটবিহীন বার্থিং-আন-বার্থিং সুবিধাসহ একই সঙ্গে ইনার চ্যানেলে ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সাথে নদীপথে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে জোয়ার-ভাটার অপেক্ষা ছাড়া সংযোগ-সুবিধা রয়েছে। কন্টিনজেন্সি অ্যাংকরেজ সুবিধার পাশাপাশি সুবিশাল ও সুপ্রশস্ত আধুনিক কার পার্কিং শেড ব্যবহার, সাশ্রয়ী ট্যারিফ রেইট সুবিধা রয়েছে। সড়ক পথে কার্গো পরিবহনে থাকবে যানজটবিহীন সুবিধা।

সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার একটি বেসরকারি আবাসিক হোটেল শিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল।

সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দপ্তর, সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বন্দর ব্যবহারকারী-অংশীজন, মাস্টারপ্লান প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডের রয়্যাল হাসকোনিং ডিএইচভি’র উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল ২০২৬ সালের জুলাই মাস হতে পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল অপারেশনাল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার প্রস্তুতি ও সহযোগিতা আহবান করেন। এছাড়া ড্রেজিংসহ অত্যাবশ্যক কয়েকটি কাজ সম্পাদনে তিনি সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে পায়রা বন্দরের মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের উপর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন বুয়েট টিমের লিড কনসালটেন্ট অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ। বন্দরের মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল হাসকোনিং ডিএইচভি’র টিম লিডার মেনো মুইজ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল কাদের পায়রা বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন।

এ আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, পায়রা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমকে ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টে বিভক্ত করে প্রতিটি কম্পোনেন্ট বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যানে বন্দরের বিস্তৃত জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবন, ওয়্যারহাউজ স্থাপন সংক্রান্ত পরিকল্পনার পাশাপাশি ট্রাফিক ফোরকাস্টিং স্টাডির মাধ্যমে পণ্য চলাচলের পূর্বাভাস, চ্যানেলের অবস্থা, সিলটেশন হার, ড্রেজিংয়ের পরিমাণ ও ধরণ ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়।

পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, সড়ক, রেল এবং টেলিকমিউনিকেশনসহ প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সংযোগের রূপরেখাও মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মাস্টারপ্ল্যনটি কেবল প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, পরিবেশগত ও সামাজিক দিক থেকেও একটি সুরক্ষিত ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন কাঠামোর পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

সেমিনারের দ্বিতীয় সেশনে বিভিন্ন অংশীজনের পক্ষ হতে মাস্টার প্ল্যান ও সামগ্রিকভাবে পায়রা বন্দরের অগ্রগতি বিষয়ক মন্তব্য ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত