জাতীয় ফলের গাছ কাঁঠাল, আম, আর ফুলের রাণী গোলাপসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছগাছালিতে সেজে উঠেছে খুলনার বৃক্ষমেলা। তরুণ প্রজন্মকে গাছের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ মেলা দর্শনার্থীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ফুল, ফল ও বৃক্ষপ্রেমীদের পদভারে মেলা প্রাঙ্গণ এখন জমজমাট।
গত ৭ জুলাই থেকে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশে ২১ দিনব্যাপী এ বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। মেলায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে নারী দর্শনার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এবারের বৃক্ষমেলায় দেশি ফলের মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, লটকন, জাম, সফেদা, কাজুবাদাম, করমচা, জামরুল, আমলকি, আতা, গাব, জলপাই ও আঙুর। বিদেশি ফলের চারার মধ্যে রয়েছে অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, পার্সিমন, লঙ্গান, ডুরিয়ান। বিভিন্ন নার্সারিতে শীলঙ্কা, কেরালা ও ভিয়েতনামি জাতের নারকেল চারা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মেলায় আছে এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ ও চুইঝালের মতো মসলা জাতীয় গাছ।
ফুলপ্রেমীদের জন্য গোলাপ, জবা, বেলি, হাসনাহেনা, চামেলি, রঙ্গন, কাঠগোলাপ, মাধবীলতা, করবীসহ অসংখ্য প্রজাতির ফুলের চারা বিক্রি হচ্ছে স্টলজুড়ে। স্টলগুলোর সামনের খোলা মাঠ জুড়ে সাজানো গাছগাছালি যেন এক টুকরো সবুজ শোভা।
বৃক্ষমেলায় অংশ নেয়া নিজাম নার্সারির স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ জানান, তার স্টলে ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে।
তিনি জানান, তাদের স্টলে প্রায় ১৫ জাতের পেয়ারার চারা রয়েছে। কাঠজাত গাছের মধ্যে আছে, মেহগনি ও সিরিজ গাছ।
গ্রিন গ্লোব নার্সারির এক বিক্রেতা বলেন, ‘চুইঝাল গাছে ফুল হয় না, এ তথ্য অনেকেই জানেন না। তাই আমরা এই তথ্য জানাতে চাই।’
মেসার্স নাফিজা নার্সারির আবু জাফর জানান, সবধরনের চারা ভালোই বিক্রি হচ্ছে- তবে আমের চারা একটু বেশি বিক্রি হচ্ছে।
সুন্দরবনের স্টলে শোভা পাচ্ছে ম্যানগ্রোভ সিলভি কালচারের গাছ সুন্দরী, খলসী, গর্জন, পশুর, ধুন্দল; এমনকি বাঘের খুলি ও সংরক্ষিত মাছও দেখানো হচ্ছে। এ স্টল থেকে সচেতনতামূলক লিফলেটও সরবরাহ করা হচ্ছে।
বৃক্ষমেলায় ঘুরতে আসা নারী দর্শনার্থী রুমানা আখতার বলেন, ‘প্রতি বছর মেলায় আসি। এ বছর প্রথম আসলাম। বাসার সামনে অনেকটা ফাঁকা জায়গা আছে। আজ দেখে গেলাম, পরিকল্পনা করছি বাসার সামনে ওই ফাঁকা জায়গায় কি কি ফলজ আর ফুল গাছ লাগানো যায়। আগামী দিন এসে গাছ কিনব।’
বেশ কয়েকটি পেয়ারা গাছ কিনেছেন ওসমান খান। তিনি বলেন, ‘বৃক্ষমেলায় আসলেই মন ভালো হয়ে যায়। দুটি পেয়ারা গাছ, একটি লেবু গাছ কিনলাম। মেয়ের জন্য ফুল গাছও কিনেছি।’
মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপর ১টা পর্যন্ত ১৩ দিনে প্রায় ১৭ হাজার ৬৮৬টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৫ টাকা। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ফলজ ও ফুলের চারা।
মেলার নিয়ন্ত্রক সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বছর মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সাড়া বেশ ভালো। প্রথম দিন থেকেই মেলায় ভালো বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনিই বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে।’
