টেস্ট ক্রিকেটে যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটি দুই স্তরের (ডিভিশন) টেস্ট কাঠামো চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে ১৩৩ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এটি হবে অন্যতম বড় সংস্কার।
সিঙ্গাপুরে সদ্যসমাপ্ত বার্ষিক সাধারণ সভায় আইসিসির নতুন ভারতীয় নেতৃত্ব—চেয়ারম্যান জয় শাহ ও প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় গুপ্ত—প্রথমবারের মতো সভায় সভাপতিত্ব করেন। ওই সভায় নয় দলের বর্তমান ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) কাঠামো বদলে ৬ দলের দুটি ডিভিশনের প্রস্তাব বিবেচনায় আনা হয়। ৮ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং পার্টি গঠন করা হয়েছে, যাদের নেতৃত্ব দেবেন সঞ্জয় গুপ্ত।
এই গ্রুপে আছেন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সিইও রিচার্ড গুল্ড এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ। বছরের শেষ নাগাদ তারা তাদের সুপারিশ আইসিসি বোর্ডে পেশ করবেন।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ২০২৭-২০২৯ সালের ডব্লিউটিসি চক্র থেকে কার্যকর হবে নতুন কাঠামো। প্রস্তাব অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত নিয়মিতভাবে একে অপরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে। এতে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে অর্থ আয়ের পরিমাণ বাড়বে। তবে ইসিবি কিছুটা দ্বিধায় আছে—এই কাঠামো ক্রিকেটের ধনী তিন দেশের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা তাদের।
বর্তমান র্যাঙ্কিং অনুসারে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা প্রথম ডিভিশনে বড় তিন দেশের সঙ্গে থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলবে।
ছোট দলগুলো যেন এই কাঠামোর ফলে পুরোপুরি ছিটকে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রোমোশন-রিলিগেশন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় ডিভিশনের দলগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
এছাড়া, সিঙ্গাপুরের সভায় ঘোষণা এসেছে—আগামী তিনটি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডে। সর্বশেষ লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার শিরোপাজয়ী ম্যাচ দিয়েই শুরু হয়েছে এই যাত্রা।
এদিকে, নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ওয়ার্ল্ড ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের চিন্তাও রয়েছে আইসিসির। আইপিএল, দ্য হান্ড্রেড ও বিগ ব্যাশের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এতে অংশ নিতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব আসেনি।
যেহেতু অনেক আইপিএল মালিক ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, যুক্তরাষ্ট্রের এমএলসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে নিয়েছেন, ফলে খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি জটিল হয়ে উঠতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২০২৭ সালকে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ তখনই আইসিসির বর্তমান ভারতীয় সম্প্রচার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।
এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে আইসিসির ১২ পূর্ণ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে টেস্ট ক্রিকেট কোন পথে হাঁটে।
