ছেলের কেনা জমি উদ্ধারে আকুতি শহীদ মিরাজের মায়ের

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ০১:১৮ এএম

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত লালমনিরহাটের মেধাবী ছাত্র মিরাজুল ইসলাম মিরাজের (২২) পরিবার এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। উপার্জনক্ষম ছেলে ও স্বামীকে হারিয়ে মিরাজের মায়ের একমাত্র চাওয়া ছেলের টাকায় কেনা পাঁচ শতাংশ জমি উদ্ধার করে একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই নির্মাণ। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের শহীদ মিরাজের মা মোহছেনা বেগম বলেন, ‘পুলিশ কেস করে যখন জমি উদ্ধার হয়নি, তখন মিরাজ বলেছিল মা, তুমি চিন্তা করো না। বড় চাকরি করে এ জমি আমি দখলে নিয়ে বাড়ি বানাব। কিন্তু সে আর ফিরে এল না।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন মোবাইল ফোনের দোকানে চাকরি করা মিরাজ। গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল থেকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তর করা হলে ৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, মিরাজের পরিবার এখন তার চাচার জমিতে টিন দিয়ে ঘেরা দুই কক্ষের ঘরে বাস করে। পাশেই ডোরা নদীর পাড়ে ছাপড়ায় রান্না, বাইরে টিনে ঘেরা বাথরুম। মিরাজের মা বলেন, ছেলের কেনা জমি স্থানীয় দুলাল নামের এক প্রতিবেশী জবরদখল করে রেখেছে। দলিল থাকা সত্ত্বেও পুলিশ জমি উদ্ধার করতে পারেনি।

মিরাজের ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারা গুলি করল মিরাজকে, তার বিচার চাই।’

শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুস ছালাম ছেলের মৃত্যুর পর সরকারি সহায়তা বাবদ পাওয়া ৫ লাখ টাকা দিয়ে মহিষখোঁচা বাজারে একটি দোকানঘর তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি স্ট্রোকে মারা যান।

মিরাজের ছোট ভাই মেজবাউল ও সিরাজুল এখন পড়াশোনার ফাঁকে দোকান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। দোকান খুললে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়, স্কুলে গেলে দোকান বন্ধ থাকে। মিরাজের দাদি সালমা খাতুন বলেন, ‘নাতি মিরাজ আমার ওষুধ-পথ্য দিত। এখন ছোট দুই নাতি যা আয় করে, তাতেই কোনোরকম খাওয়া হয়।’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, ‘একজন শহীদের কেনা জমি দখল হয়ে থাকবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আমরা দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে কাজ করব।’

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, ‘এই বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। এখন বিষয়টি জানায় খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত