চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার খতিবের হাট এলাকায় চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়ে পেশাদার ছিনতাইকারী দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পু এবং শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইশ্যা বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম রাত ৮টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুইশ্যা ও টেম্পু গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে গেছে।
পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। গতকাল রাত ৮টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেম্পু ও বুইশ্যা দুজনই পেশাদার চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের দলনেতা। দুজনই সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়। জেল থেকে বেরিয়ে আবার অপরাধ কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় চাঁদাবাজির দখল নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দুই গ্রুপের সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, ইসমাইল চান্দগাঁও থানার ফরিদাপাড়ার মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে। ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর চান্দগাঁও এলাকা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয় সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন টেম্পু। পরে জামিনে মুক্তি পায়। পুলিশের তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসী একসময় বাবার সঙ্গে টেম্পু চালাত। এ কারণে পরিচিতি পায় টেম্পু হিসেবে। টেম্পু বাহিনী নামে রয়েছে তার বিশাল সন্ত্রাসী দল। ৩৮ বছর বয়সী সন্ত্রাসী টেম্পুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে ৩১টি মামলা। বেশিরভাগই ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র মামলা।
পুলিশের তথ্যমতে, বিভিন্ন মামলায় সন্ত্রাসী টেম্পু পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ১২ বার। প্রতিবারই তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে কাঁটা রাইফেল, পিস্তল, বন্দুকসহ নানা ধরনের অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র। ২০১৪ সালে আবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় টেম্পু। ওইদিন রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানার সমশেরপাড়ায় তাকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তার সহযোগীরা। এ সময় ক্রসফায়ারে পড়ে পায়ে গুলি লাগে টেম্পুর।
তবে বেঁচে যাওয়া টেম্পু সেবার ছয়-সাত মাস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও খোঁড়া হয়ে যায় তার পা। প্রায় ১৯ মাস জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে।
এদিকে গত বছরের ৯ নভেম্বর নগরীর চান্দগাঁও থানার পাশেই ওয়াসিফ মোটরস নামে একটি দোকানে চাঁদা না পেয়ে সহযোগীদের নিয়ে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা। ভুক্তভোগী দোকানি মারুফ থানায় কোনো অভিযোগ না দিলেও গুলি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, বুইশ্যার বিরুদ্ধে নগরের পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম এলাকা জিইসি মোড়ে চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গার্মেন্টস পণ্যভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যান লুট করে নিয়ে যায় বুইশ্যা বাহিনীর সদস্যরা। দুই সন্ত্রাসীকেই গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন।
