ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগীরা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ০৩:৩৭ এএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা শহরের সখিনা বেগম তার অসুস্থ নাতনি নাজিফাকে (৬) নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে এএসও টাইটার পরীক্ষা করাতে বলেন। সে অনুযায়ী, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস নামের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরীক্ষায় এর স্বাভাবিক মাত্রা ২০০-এর স্থলে ৬০০ আসে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিভাগীয় শহর বরিশালের জাহানারা ক্লিনিকে একই পরীক্ষায় এর স্বাভাবিক মাত্রা ২০০ আসে। এর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশ কিছু ওষুধ সেবন করানো হয়। এতে শিশুটি সুস্থতার পরিবর্তে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওষুধের পাশর্^প্রতিক্রিয়ায় শিশুটি বিকলাঙ্গ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জাহানারা ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন।

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক জি এম এনামুল হকের শরণাপন্ন হয়ে পবিপ্রবির অসুস্থ এক শিক্ষার্থী দি প্যাথলজি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীকে টাইফয়েডের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবার পরীক্ষা করালে আগের রিপোর্ট ভুল প্রমাণিত হয়। ওই শিক্ষার্থীর শরীরে টাইফয়েডের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। পরে দুই সপ্তাহ আইসিইউতে থেকে ভিন্ন চিকিৎসায় সুস্থ হন।

নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস ও দি প্যাথলজি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো উপজেলার বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার এভাবে ভুল রিপোর্ট দেয় বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। এতে অতিরিক্ত টাকা খরচের পাশাপাশি ভুল চিকিৎসায় হয়রানি হতে হচ্ছে তাদের। প্রতিকার পেতে নাজিফার দাদি সখিনা বেগম ১৭ জুলাই নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপরই বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেসের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আরিফুল ইসলাম বলেন, রিপোর্ট ভুল ছিল না। এখানে অন্য কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মীর শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অদক্ষ কিছু টেকনিশিয়ান রয়েছে। তাদের কারণে রিপোর্টে অনেক সময় ভুল হয়। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, ‘ভুল রিপোর্টের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘শিগগিরই প্রতিটি ক্লিনিকে ভিজিট করা হবে। যে যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো আপডেট আছে কি না বা মিথ্যা কোনো রিপোর্ট হচ্ছে কি না সেটি আমরা দেখে ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত