দুই শিক্ষিকাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫, ০৬:১৯ এএম

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এ ঘটনায় স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব নেওয়া হয়। তাদের প্রতি শোক জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়েছে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মাগফিরাত কামনা করে ও আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনা করে আজ শুক্রবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

গত সোমবার রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন শিক্ষক হলেন মাহেরীন চৌধুরী এবং মাসুকা বেগম। এদিকে আমাদের নীলফামারী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মাহেরীন চৌধুরীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। গত বুধবার রাতে নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ী গ্রামে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের পক্ষ থেকে শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মমিনুল ইসলাম, ওআইসি আনিছুজ্জামান, ওসি সি অ্যান্ড এম ইউনিট লালমনিরহাট, জলঢাকা থানার ওসি আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনসহ বিমানবাহিনীর জেসিও পদবির সিনিয়র কর্মকর্তারা। বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিদল তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মমিনুল ইসলাম বলেন, মানবিকতা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। নিজের জীবন উৎসর্গ করে যেভাবে তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষা করেছেন, তা চিরকাল সবার হৃদয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এ সময় শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ও সম্মাননা দেওয়ার দাবি তোলেন এলাকাবাসী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত