গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দলকে প্রথমবারের মতো জুনিয়র বিশ্বকাপের টিকিট পাইয়ে দিয়েছিলেন কোচ মওদুদুর রহমান শুভ। ইতিহাস গড়া সেই সাফল্যেই থেমে থাকেননি এই কোচ। সম্প্রতি বাংলাদেশকে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে তুলেছিলেন শুভ। অথচ সফল কোচকে বাদ দিয়ে আজ শনিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে জুনিয়র বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। শুভকে বাদ দিয়ে আপাতত ৪৫ জন তরুণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যে দুজনের হাতে তাদের একজন হকির ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারতের চেন্নাই ও মাদুরাই শহরে ২৮ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ২৪ দলের জুনিয়র হকি বিশ্বকাপ। গত বছর ডিসেম্বরে ওমানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র এশিয়া কাপে চায়নাকে হারিয়ে পঞ্চম হয়ে প্রথমবারের মতো হকির যেকোনো পর্যায়ের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে মওদুদুর রহমান শুভর শিষ্যরা। সেই সাফল্যর পর গভীর ঘুমে চলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্তারা। পাওয়া সময়টা কাজে লাগানোর পথে হাঁটেননি তারা। ফলে দীর্ঘ প্রায় সাত মাস বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি তরুণ হকি খেলোয়াড়রা। এরপর যখন ফেডারেশন কর্তাদের ঘুম ভাঙল তখনই তারা নিলেন এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ইতিহাস গড়া কোচ মওদুদুর রহমান শুভকেই তারা ছেঁটে ফেললেন। দায়িত্ব দিলেন সর্বশেষ এএইচএফ কাপে অংশ নেওয়া ব্যর্থ বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ মশিউর রহমান বিপ্লব ও আশিকুজ্জামানকে। মামুনুর রশীদ ও বিপ্লবের অধীনে বাংলাদেশ দল এএইচএফ কাপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলে ৪৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ হারায়।
সফল কোচ শুভকে বাদ দেওয়ার যুক্তিযুক্ত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি হকি ফেডারেশনের আলোচিত সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান, ‘এটাকে আবার আপনারা ইস্যু বানাবেন না। কমিটি মনে করেছে বিপ্লব ও আশিকের কম্বিনেশনটা দলের প্রস্তুতির জন্য ভালো হবে। তাই আমরা তাদের কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছি। তাছাড়া কদিন পর তো বিদেশি কোচ দায়িত্ব নেবেন। আশা করছি আমরা সেরা প্রস্তুতি নিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নেব।’
১ সেপ্টেম্বর ডাচ কোচ সিগফ্রাইড অকম্যানের জুনিয়র দলের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এখনো ওমানের সাবেক কোচের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সারেনি ফেডারেশন। যার হাত ধরে যুবারা বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে, সেই শুভ অভিজ্ঞ ডাচ কোচের পাশে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি কোচের কাজটা সহজ হতো। এই সহজ সত্যটা সবাই বুঝলেও ফেডারেশন কর্তারা মানছেন না।
ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু জাফর তপন শুভকে বাদ দেওয়ার বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন, ‘শুভকে নানা কারণে নেওয়া হয়নি। অন্যতম কারণ হলো আমাদের কমিটি শুরুতে কোচেস প্যানেল করার জন্য ডাকা হলেও ও সাড়া দেয়নি। ব্যক্তিগত কারণ বললেও সেই সময় অন্য জায়গায় কোচিং করিয়েছে। আমরা কেবল কোচের সাফল্য দেখছি না, অন্য বিষয়গুলো বিবেচনা করে কোচ নির্ধারণ করছি।’
এদিকে প্রস্তুতির প্রথম সাত মাস কাজে না লাগানোর ব্যাখ্যায় ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘দলকে জানুয়ারি থেকেই অনুশীলনে রাখতে পারলে আমি নিজে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। আমাদের সামর্থ্য বুঝতে হবে। টানা ক্যাম্প চালাতে অনেক টাকা প্রয়োজন। আর হকি ফুটবল-ক্রিকেটের মতো খেলা না যে স্পন্সর চাইলেই পাওয়া যাবে। আমরা চার মাসের পরিকল্পনা করে শুরু করতে যাচ্ছি। এই চার মাস যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্যাম্প চলে সেই ব্যবস্থাই এই সাত মাসে করেছি। দলকে প্রস্তুত করতে কমপক্ষে চার কোটি টাকা প্রয়োজন। আমরা ২ কোটি টাকার মতো জোগাড় করেছি। আশা করছি বাকিটাও ব্যবস্থা করে ফেলতে পারব।’
