গাইবান্ধায় কলেজছাত্র হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০৯:৪৭ পিএম

গাইবান্ধার সাঘাটায় কলেজছাত্র সিজু মিয়া (২৫) হত্যার বিচার দাবিতে জেলা শহরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আজ শনিবার বিকেল পুলিশ সুপার কার্যালয় সামনে এই মানববন্ধন করেন তারা। বিকেল পাঁচটা থেকে এক ঘণ্টাব্যাপী চলে কর্মসূচি। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আধা ঘণ্টাব্যাপী তারা একই স্থানে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

এ সময় উভয় পাশে যানবাহন আটকে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সোয়া সাতটা পর্যন্ত পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশ সুপার তার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন।

এই অবস্থায় তার পক্ষে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) শরিফুল আলম সড়কে বেড়িয়ে আসেন। এ সময় তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই হত্যার বিচার পাবেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই হত্যার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ সময় সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ সুপার নিহতের মা, বোন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তার কক্ষে ডেকে নিয়ে বিচারের আশ্বাস দেন।

এ সময় বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের কলেজশিক্ষক শাহজাহান মিয়া, গিদারি ইউপি সদস্য রমজান আলী ও হিরু মিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাইবান্ধা জেলার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সংগঠক অতনু সাহা ও জাহিদ হাসান, নিহত সিজু মিয়ার মা রিক্তা বেগম, বড় বোন খুশি বেগম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাঘাটা থানার ভেতরে ও পুকুরে সিজু মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু পুলিশ শুক্রবার প্রেস ব্রিফ করে ঘটনা সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছে। তারা সাজানো নাটক প্রচার করে। বক্তারা সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলমের নির্দেশে থানার ভেতর সিজুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে দাবি জানিয়ে বলেন, সিজু জীবন বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিলে সেখানেও ওসির নির্দেশে পানির ওপর পেটানো হয়। পুকুরের পানিতে পেটানোর ভিডিও নিহতের স্বজনরা হাতে পেয়েছেন।

বক্তারা আরও বলেন, সিজু মিয়া একজন কলেজছাত্র। তিনি কয়েকদিন আগে ছয় হাজার টাকায় একটি স্মাট ফোন কিনেছিলেন। সেটি চোরাই বলে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে তার কাছ থেকে মোবাইলটি ফিরিয়ে নেয়। মোবাইল নেওয়ার বিষয়টি জানতে সিজু সেদিন বিকেলে সাঘাটা থানায় গিয়েছিল। কী অপরাধ ছিল সিজুর? মোবাইল কেনার অপরাধে কেন থানায় ডেকে নিয়ে এবং পুকুরের ভেতর কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হলো?

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলম দীর্ঘসময় গাঢাকা দিয়ে থাকেন। শুক্রবার রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত অ্যাঞ্জেলা ওসি বাদশা আলমকে বাঁচানোর জন্য শুক্রবার সাঘাটা থানায় গিয়েছিলেন।

তারা বলেন, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত অ্যাঞ্জেলা যোগদানের পর থেকে অপরাধ বেড়েছে। জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোনও বিচার হচ্ছে না। অপরাধীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। আমরা জনগণের পুলিশ সুপার চাই।

নিহত সিজু মিয়ার বড়বোন খুশি বেগম বলেন, আমরা সাঘাটা থানার ওসির বিচার ও ফাঁসি চাই। সঠিক তদন্ত চাই। তাকে ফাঁসি দিলে আমার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে।

পুকুর থেকে রাতেই কেন সিজুকে তুললেন না, জানতে চাইলে সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলম মুঠোফোনে বলেন, বৃহস্পতিবার সারারাত আমরা সিজুকে পুকুরের পানি থেকে উঠানোর জন্য চেষ্টা করেছি। তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, তুমি পানি থেকে উঠে আস, সমস্যা নেই। এমনকি ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি না থাকায় গভীর পানি থেকে তাকে তোলেনি। পুলিশের কোনও গাফিলতি ছিল না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত