কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামে ভুয়া বক্তব্য ছড়ানোর অপপ্রয়াসের তথ্য প্রকাশ করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অধীন ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া গবেষণা ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
‘বাংলাফ্যাক্ট’ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি পক্ষ গুলশানের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য দাবিতে একটি এআই-নির্মিত ভিডিও ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অথচ সংশ্লিষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসে ভিডিওর বক্তব্যের সত্যতা মিলেনি। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে তৈরি।
মূল ঘটনাটি ঘটে ২৬ জুলাই। সেদিন রাজধানীর গুলশানে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ ও ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামের দুটি সংগঠনের সদস্য পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচজনকে আটক করে। পরবর্তীতে উভয় সংগঠন থেকেই অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়—যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনার জের ধরে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়, যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নামে বলা হয়: ‘চাঁদাবাজ হোক বা যাই হোক, ওরা তো আমাদেরই সন্তান। হ্যাঁ, গুলশানে যে ধরা পড়েছে সে আমাদের এনসিপির নেতা। আমি বকে দিয়েছি, বলেছে আর করবে না।’
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ভিডিওটিতে ব্যবহার করা ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি এবং নিচের ডান পাশে থাকা ‘ভিও’ লেখাটি প্রমাণ করে এটি গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর একটি টুলের মাধ্যমে বানানো। সেই টুলে লেখা দিয়ে স্বরসহ ভিডিও তৈরি করা যায়।
এছাড়া ভিডিওতে থাকা ইংরেজি সাবটাইটেলেও ব্যাকরণ ও বানানে একাধিক ভুল রয়েছে, যা ভুয়া ভিডিওটির অখাঁটি পরিচয় স্পষ্ট করে।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, বাংলাদেশে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় তাদের দল নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে, যাতে নাগরিকরা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারেন।
