খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর আগে ছিল অজানা আশঙ্কা। তবে ক্লাস শেষে বের হওয়ার পর ছিল অন্যরকম অনুভূতি। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে গিয়ে তাদের মাঝে দেখা যায় অন্যরকম এক আনন্দ, অন্য রকম এক উচ্ছ্বাস। এদিকে, দীর্ঘদিন পর ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দীর্ঘ ১৬০ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হতে থাকে। সকাল ৯টা থেকে দুটি শিক্ষাবর্ষের প্রায় দুই হাজারের মতো শিক্ষার্থী ক্লাসে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী বিভিন্ন ক্লাসে গিয়ে ঘুরে ঘুরে পাঠদান কার্যক্রম তদারকি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসলাম হোসেন বলেন, আমার বাড়ি মাগুরা জেলায়। ক্লাস শুরুর খবর পেয়ে গতকাল (২৮ জুলাই) খুলনায় চলে এসেছি। ক্লাস শুরু হবে জানতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছিল। সহপাঠীরাও আসতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ক্লাস বন্ধ থাকায় অনেকে বাসা ও মেসের রুম ছেড়ে দিয়েছিল। তারা আবার রুম ভাড়া করে উঠতে শুরু করেছেন। এ এক অন্যরকম আনন্দ, অন্যরকম অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী তানিম আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে, এতে আমরা অনেক খুশি। হয়ত প্রথম দিন পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে না। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। আমাদের অনেক সহপাঠী খুলনার বাইরে পরিবারের কাছে চলে গিয়েছিল। তারাও নোটিশ পেয়ে আসতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে আমরা এখন দারুণ খুশি। শিক্ষকদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।
২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী দীপ্ত বলেন, দীর্ঘ ৫ মাস বন্ধ থাকার পর ক্লাস শুরু হওয়াটা একটা পজিটিভ দিক। নতুন ভিসি যোগদান করেছেন, আশাকরি তিন ঠিকঠাকভাবে এগোতে পারবেন। এমনিতেই আমরা এক সেমিস্টার পিছিয়ে আছি। লং টার্মের জন্য এটি বড় ক্ষতি। তবে আজ (মঙ্গলবার) রুটিন অনুযায়ী
সবগুলো ক্লাস হয়েছে। ম্যাডাম বলেছেন বাকি দুইদিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) রুটিন অনুযায়ী ক্লাস হবে। আমার খুব ভালো লাগছে।
ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের ছাত্র আম্মান বলেন, অনেকদিন ধরে জীবন থেমে গিয়েছিল। ক্লাস করতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আজকের (মঙ্গলবার) দিনটা স্পেশাল মনে হচ্ছে। স্কুল জীবনের মতো প্রথম ক্লাসে আসার অনুভূতি মনে হচ্ছে।
কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফারুক হোসেন বলেন, উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচি তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষকরা ক্লাসে যোগ দিয়েছেন।
কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী বলেন, ক্লাস শুরু হওয়ার পর আমি ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিতি হয়েছি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করতে সবার পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবো। আশাকরি আগামী দিনগুলোতে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে। এর আগে গত ২৪ জুলাই অধ্যাপক (অব.) ড. মো. মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ২৫ জুলাই অপরাহ্ণে তিনি যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-ছাত্র প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দ, জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত জানান।
অপরদিকে, গত ৪ মে থেকে ক্লাস বর্জন করে আসা শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও তিন মাসের জন্য তাদের কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা গণমাধ্যমকে জানানো হয়। যার ফলে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই ক্লাসে ফিরে আসায় অনেকটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেয়। নোটিশ পেয়ে শিক্ষার্থীরা গত সোমবার থেকে খুলনায় আসতে শুরু করেছে। তবে বৃষ্টির কারণে ক্লাস শুরুর প্রথম দিনে দূর থেকে অনেক শিক্ষার্থী আসতে পারেননি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভিসি-প্রোভিসি এবং ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় ভিসিবিরোধী এক দফা দাবিতে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১ মে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলীকে অন্তর্বর্তী ভিসি নিয়োগ দেওয়ার পর শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচার দাবিতে ক্লাস বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। এভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গত ১৯ মে খুলনা ত্যাগ করেন অধ্যাপক ড. হযরত আলী। এরপর ২২ মে তিনি পদত্যাগ করেন ভিসির পদ থেকে। তবে দুই মাস দুই দিনের মাথায় ভিসি নিয়োগ হলেও কুয়েটের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল পাঁচ মাস ১০ দিন।
সবশেষ গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী কুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় কুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে ড. মো. মাকসুদ হেলালী যোগদান করেন।
দেশের কয়লা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা জ্বালানি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক
ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সেই চেইনম্যান নজরুলসহ চার আসামির বিচার শুরু
মণিরামপুরে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বরের প্রকোপ
সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
৩০০ বছরের পুরোনো বৌদ্ধ বিহারের জমি উদ্ধার