ইউক্রেনে রাশিয়ার সংঘাতের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি কারাগারে হামলায় ২৫ জন নিহত হওয়ার একদিন পর ইউক্রেনে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মস্কো। হামলায় কমপক্ষে তিন সেনা নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরও ১৮ জন। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলার সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, পুরোপুরি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। হামলাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে, সে বিষয়ে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী কিছু না বললেও, দেশটির যুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিক আন্দ্রি তাপলিয়েঙ্কোর দাবি কিয়েভের উত্তরের চেরনিহিভ অঞ্চলে হামলাটি চালানো হয়েছে। ওই অঞ্চলটি মূলত রাশিয়া ও বেলারুশের সীমান্তবর্তী এলাকা।
হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। পরে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ঝোপঝাড়ে ঢাকা একটি এলাকায় আঘাত হানছে একটি ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তবে, ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই হামলায় ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হতাহতের যে সংখ্যা ইউক্রেন জানিয়েছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি বলে দাবি মস্কোর। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি ইউক্রেন।
গত দুই মাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউক্রেনের প্রশিক্ষণ ইউনিটে হামলা চালাল রাশিয়া। গত মে মাসেও সীমান্তবর্তী সামি অঞ্চলে এমন একটি রুশ হামলায় ছয় ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়। এরপর জুনে আরেকটি হামলায় প্রাণ হারান ১২ জন, আহত হন আরও অন্তত ৬০ জন। সেই ঘটনায় ইউক্রেনীয় স্থলবাহিনীর কমান্ডার মিখাইলো দ্রাপাতি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
এদিকে, গত মঙ্গলবারও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে অগ্রগতি না হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগামী ১০ দিনের মধ্যে শুল্কসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
