রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নেতৃত্ব চান শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পথচলা আবার শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৬ বছর পর গত মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে এই নির্বাচনী তফসিল। ইতিমধ্যেই প্রার্থীরা নিজেদের পরিচিত করাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। যদিও রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ, তবে এবারের নির্বাচনে যোগ্য, স্বচ্ছ নেতৃত্ব, শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিভিন্ন আন্দোলন ও কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এমন প্রার্থীদের পছন্দের তালিকায় ওপরে রাখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন হয়েছে ৩৭ বার। এর মধ্যে ২৯ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে। আর স্বাধীনতার ৫৩ বছরে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পেরেছেন মাত্র ৮ বার। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয় ২০১৯ সালে। সে নির্বাচনে বেশিরভাগ পদে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) প্যানেল থেকে জয় পেলেও ভিপি পদে জয়ী হয়েছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর।

 ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে ১২ আগস্ট, যা চলবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। ১৯ আগস্ট বিকেল ৩টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ আগস্ট প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রার্থীরা চাইলে ২৫ আগস্টের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ২৬ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। একই দিন ফলাফলও ঘোষণা করা হবে।

যদিও তফসিল ঘোষণার আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হবে নারী শিক্ষার্থীদের ভোট। তাছাড়া, জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের ভোট বদলে দিতে পারে নির্বাচনের সার্বিক চিত্র। তাছাড়া, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটও প্রার্থীদের এগিয়ে রাখতে সহায়ক হবে।

প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় যারা : ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) এবার মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়বেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল সম্পর্কে জানা যায়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে তা দ্রুত নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে হতে পারে ‘সম্মিলিত সাধারণ শিক্ষার্থী’ প্যানেল। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবির ও বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলো পৃথকভাবে প্যানেল দিতে পারে বলে জানা গেছে। তাছাড়া, ইসলামিক দলগুলোর নেতৃত্বে হতে পারে আরেকটি স্বতন্ত্র প্যানেল।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান ও বি এম কাওসার, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, কবি জসীম উদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক তানভীর বারী হামিম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব জাহিদ আহসান, ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদেরের নাম আলোচনায় আছে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম ও বর্তমান সভাপতি এস এম ফরহাদ ভিপি প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়া ছাত্র অধিকার পরিষদের বিন ইয়ামিন মোল্লা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক উমামা ফাতেমা বেশ আলোচিত।

বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর জাবির আহমেদ জুবেলের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাছাড়া, স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল খায়রুল আহসান মারজানও আলোচনায় রয়েছেন।

ডাকসু ও হল সংসদের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ : নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী গতকাল বুধবার ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, এবারের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৯৩২ জন। এরমধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৯০৪ জন ও ছাত্রী ভোটার ১৯ হাজার ২৮ জন। মোট ভোটারের ৪৭ শতাংশের বেশি ছাত্রী আর ৫২ শতাংশ ভোটার ছাত্র।

ছাত্রী ভোটারদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে ভোটার ৫,৬৭৬ জন, শামসুন নাহার হলে ৪,০৯৮, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে ২,১০৮, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪,৪৯৫ জন ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ২,৬৫১ জন।

ছাত্র ভোটারদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ১,৯৬১, কবি জসীম উদ্দীন হলে ১,২৯৮, জগন্নাথ হলে ২,২৫৪, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১,৬০০, ফজলুল হক মুসলিম হলে ১,৭৭৯, বিজয় একাত্তর হলে ২০১৩, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ১,৭৩৫, মাস্টারদা সূর্য সেন হলে ১,৪৯৫ জন, স্যার এ এফ রহমান হলে ১,৪৮০ জন, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ১,৩৯৪, অমর একুশে হলে ১,৩১৯, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৫৫৯, শহীদুল্লাহ হলে ২,০১৭ জন।

তফসিল অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি থাকলে আগামী ৬ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এরপর ১১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ডাকসু একটি বড় আয়োজন। স্বাভাবিকভাবেই এটি নিয়ে আশা এবং আশঙ্কা দুটোই থাকবে। তফসিল পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে সব রকম চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে ভৌগোলিক কারণে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের পক্ষে একা সম্ভব না, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তাছাড়া, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহনশীলতা গড়ে উঠেছে। সহাবস্থানের পরিবেশ এখন ক্যাম্পাসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত