সেমিনারে দেবপ্রিয়

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘এক্সিট পলিসি’ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৬ এএম

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত পরবর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কৌশল ঠিক করা। তিনি জানান, বর্তমান সরকার যেসব কাজ করেছে, আগামী সরকার তা সম্পূর্ণভাবে বৈধতা দেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখনো আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে সরকার কী অর্জন করে বিদায় নিতে চায়, তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। এখনই সেই সময় এসেছে।’ গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ডেমোক্রেসি ডায়াস’ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত সেমিনারে দেবপ্রিয় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক সংস্কার অসম্পূর্ণ থাকবে, যা পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে। এই ধারাবাহিকতা মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যথায়, সংস্কারের নামে এমন কিছু কাজ হতে পারে, যা প্রকৃত সংস্কারের পরিপন্থী।’

দেবপ্রিয় আরও বলেন, ‘যখন কোনো রাজনীতিবিদ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি করেন, তখনই রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে জরুরি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যখন সংস্কার হয় না, তখন অন্তর্বর্তী সরকার এলে আমরা মনে করি, সব সংস্কার একসঙ্গে করে ফেলা সম্ভব। অতীতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর একটি  “এক্সিট পলিসি” ছিল। বর্তমান সরকারকেও এটি নিয়ে ভাবতে হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এক্সিট পলিসির ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা যথেষ্ট নয়। আমরা কী আকাক্সক্ষা নিয়ে এই সরকার গঠন করেছিলাম, তার সমাপ্তিতে কী অর্জন করা হলো, আগামী সরকারের জন্য কী রেখে যাওয়া হচ্ছে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করার সময় এসেছে। শেষবিচারে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অভিভাবক রাজনীতিবিদরা। তারা যদি এই প্রক্রিয়াকে সঠিক পথে না রাখেন, তাহলে কেউ তা করতে পারবে না।’

সেমিনারে অন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সংকট সমাধানের জন্য দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানান। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন, সংস্কার ও বিচারএই তিনটি বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, আগামী নির্বাচন কোনো পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে? জামায়াত ও এনসিপি সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির পক্ষে দাবি জানাচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপি প্রচলিত সরাসরি নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ‘ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ আল মামুন ২৬টি দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকাল, সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ২৬টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশ অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করেছে। এর ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। গবেষণায় বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির (পিআর) সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখনো এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়। যারা এই পদ্ধতির দাবি করছেন, তারা মূলত দলীয় স্বার্থে কথা বলছেন, দেশের স্বার্থে নয়। অনেকে মনে করেন, সরকারের সময় বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ার জন্যই এই দাবি উত্থাপিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত