সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘যারা লুটপাট করে, যারা ব্যাংক লুট করে, যারা চাঁদাবাজি করে, যারা মানুষের সম্পত্তি দখল করে নিয়ে যায়, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো রকমের আপস থাকবে না। তাদের আমরা কখনোই স্বীকার করব না এবং তাদের আমরা কোনো মতেই সামনে আসতে দেব না।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বিরাট একটা ভয়ংকর ফ্যাসীবাদের হাত থেকে আপাতত মুক্তি পেয়েছি। এই মুক্তি তখনই চূড়ান্ত হবে যখন তাদের আমরা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারব।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেকে অনেক কথা বলেন অনেক ভুল আছে, ত্রুটি আছে, অভিজ্ঞতা নেই বেশি। আমি আশা করেছিলাম যে, এক বছরের মধ্যে আমাদের যারা শহীদ হয়েছে, প্রকৃত তালিকা করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব। দুর্ভাগ্য, তারা পুরোটা করতে পারেনি। কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। সংস্কারের যে বৈঠক, সেটা গতকাল (বৃহস্পতিবার) শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, দুই-এক দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস হচ্ছে, যে ঘোষণা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা দিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে এই নির্বাচনটা আমরা চাই, দেশের মানুষ চায়। দেশের মানুষ একটা নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ পরিচালনা করতে চায়। আমার তো যাওয়ারই জায়গা নেই। এখন আমার কোনো সমস্যা হলো আমি কার কাছে যাব? কোনো এমপি নেই তো! তাহলে আমি যাব কার কাছে? এ জন্যই আমাদের দ্রুত নির্বাচন দরকার, খুব দ্রুত পার্লামেন্ট দরকার। যে পার্লামেন্টে আমরা আমাদের কথাগুলো বলতে পারব।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ওপর যে আস্থা রেখেছিল জনগণ, একইভাবে আজকে তারা তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখছে। অপেক্ষা করছি, কবে তারেক রহমান সাহেব দেশে আসবেন। কবে নেতৃত্ব দেবেন। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, তারেক রহমান সাহেব যেন অতি দ্রুত দেশে আসেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নেতৃত্ব দেন। সেটাই আমাদের কামনা।’
আগামীতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান প্রান্তিক মানুষের জন্য ‘ফার্মাস কার্ড’, ‘স্বাস্থ্য কার্ড’, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএমএ আবদুর রাজ্জাকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি পালন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম নিরব, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, যুব দলের নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজিব আহসান, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, জাসাসের হেলাল খান, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীরসহ শহীদদের পরিবারের সদস্যরা।
ইভিএমের মতো জনগণ পিআর প্রত্যাখ্যান করবে মির্জা আব্বাস : বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘ইলেক্ট্রোনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মতো জনগণ সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিকে (পিআর) প্রত্যাখ্যান করবে।’
তিনি বলেন, ‘পিআর জনগণ বোঝে না। আগে তরুণ প্রজন্মকে ভোট দেওয়া শেখাতে হবে। এরপর পিআর পদ্ধতির বিষয়টি আসবে। শেখ হাসিনা ইভিএম চাপিয়ে দিতে চাইলেও লাভ হয়নি। সেভাবে জনগণ পিআর পদ্ধতিকেও প্রত্যাখ্যান করবে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে বিএনপির বিরুদ্ধে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের ঘোষণা নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। ভোটের জন্য বিএনপি প্রয়োজনে আরও ১৭ বছর আন্দোলন করবে।’ মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একটি পরগাছা দল বর্তমানে এনসিপির ঘাড়ে সওয়ার হয়েছে। সবাইকে ফ্যাসিস্টের মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, মীর আলী নেওয়াজ, ইশরাক হোসেন, দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবীসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
