পার্বতীপুরে অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৮ এএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গত চার মাসে অর্ধশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বিদ্যালয়ের আলমারির তালা ভেঙে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান, সাবমার্সিবল মোটর, সৌরবিদ্যুৎ ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, ঘড়ি, ঘণ্টা, হারমোনিয়াম, সাউন্ড সিস্টেম, প্রিন্টার, ওয়াইফাই রাউটার, হ্যান্ড মাইক, পানির ট্যাপ, রাইস কুকার, ম্যাজিক চুলা, বিভিন্ন আসবাবসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। সরেজমিনে ও মোবাইল ফোনে উপজেলার অর্ধশত বিদ্যালয়ের প্রধানদের সঙ্গে কথা হলে তারা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। ৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রহরী ও কাম দপ্তরি রয়েছে। বাকি ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো প্রহরী নেই। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নেই বাউন্ডারি।

মাঝাপাড়া নব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবিনা আখতার বলেন, ‘আমার স্কুলে সাতবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫টি গাজী মোটর পাম্প, ১২টি সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান ১টি ও সোলার ব্যাটারি চুরি হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও থানায় অভিযোগ করেছি। এ থেকে কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’

পার্বতীপুর শহরের স্টার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা নুজহাত জেরিন বলেন, ‘রমজানে ৪০ দিনসহ ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিদ্যালয় ২১ দিন বন্ধ ছিল। তারপরও আমি দিনের বেলায় স্কুলে আসা-যাওয়া করেছি। গত ২৪ জুন স্কুল খোলার পর দেখতে পাই বিদ্যালয়ের তৃতীয়তলায় প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত চারটি কক্ষের ২০টি সিলিং ফ্যান চুরি হয়েছে। এর আগে পবিত্র রমজানে ৪০ দিন স্কুল বন্ধ থাকায় অফিস কক্ষে রাখা ম্যাজিক চুলা, রাইস কুকার, ঘড়ি, অফিস কক্ষের ভেন্টেলেটর, বাগানের লোহার গ্রিলসহ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়ে গেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাই এবং তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিষ্ঠানে ছুটে আসেন।’ এ ঘটনায় গত ২৪ জুন পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ে চুরি সংঘটিত হয় সেগুলো হলো বেলতলির ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঘাচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাজনগর রাঙ্গামাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুর্গাপুর উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদীবাড়ী নওদাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রজনীগন্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্মথপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিকাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করতোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাড়–য়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চক জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক প্রাধমিক স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চুরির সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তাদের কাছে কাগজে-কলমে রয়েছে মাত্র ২০টি বিদ্যালয়ের চুরির তথ্য।

পার্বতীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক সরকার বলেন, ‘উপজেলার ২০টি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রহরী ও কাম দপ্তরিও রয়েছে। তারপরও চুরির ঘটনা ঘটছে।’

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উপজেলার এসব বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত