আল-আকসা প্রাঙ্গণে উল্লাস ও নৃত্য করেছে ইসরায়েলি মন্ত্রী ও হাজারখানেক ইহুদি

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪৫ পিএম

হাজারখানেক অবৈধ বসতি স্থাপনকারী নিয়ে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রার্থনা, উল্লাস ও নৃত্য করেছে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

রবিবার (২ আগস্ট) আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বলে দাবি করেন ইহুদিবাদী এ নেতা। এমনকি মুসলমানদের সংবেদনশীল এই ধর্মীয় স্থান নিয়ে বিদ্যমান নিয়মকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা জর্ডানের ধর্মীয় ফাউন্ডেশন (ওয়াকফ) কর্তৃক পরিচালিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, অমুসলিমরা সেখানে প্রবেশ করতে পারলেও প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ।

ইসরায়েলের সরকারের মতেও, আল-আকসা চত্ত্বরে অমুসলিমদের প্রার্থনা নিষিদ্ধ থাকবে— কারণ এটি মুসলিমদের জন্য তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ইহুদিদের জন্য সর্বাপেক্ষা পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।

তবে রবিবার বেন-গভির হাজারখানে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নিয়ে মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য আমিত হালেভি। তারা সেখানে তালমুদি রীতিনীতির চর্চা, গান ও নৃত্য করে এবং পুরো সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাদের পাহারা দেয়।

সংবাদমাধ্যম আনাদুলো জানিয়েছে, প্রাঙ্গণের ভেতর থেকেই বেন-গভির এক বিবৃতিতে বলেন— ‘টেম্পল মাউন্ট (আল-আকসা) ইহুদিদের এবং আমরা চিরকাল এখানেই থাকব।’ তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে।

এই অনুপ্রবেশের কয়েক ঘণ্টা আগেই মধ্যরাতে বেন-গভির জেরুজালেমের পুরাতন শহরের মধ্য দিয়ে আরেকটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

এসব মিছিলের আয়োজন করে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ‘টেম্পল মাউন্ট’, যারা তিশা ব’আভ উপলক্ষে আল-আকসা মসজিদে ব্যাপক হারে প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছিল। তারা দিনটিকে ‘প্রাচীন ইহুদি মন্দির ধ্বংসের বার্ষিকী’ হিসেবে দাবি করে।

টেম্পল মাউন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে বেন-গভিরকে একটি দল নিয়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে হেঁটে যেতে দেখা যায়। অন্য কিছু ভিডিওতে তাকে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যদিও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

এ ঘটনাটি হয়েছে তিশা ব’আভ উপলক্ষে— এটি ইহুদিদের একটি উপবাস দিবস, যেদিন তারা প্রাচীন দুটি ইহুদি মন্দির ধ্বংসের শোক পালন করে। ঐতিহাসিকভাবে এই মন্দির দুটি আল-আকসার বর্তমান অবস্থানে অবস্থান করতো বলে ইহুদিদের বিশ্বাস।

ওয়াকফ জানিয়েছে, রবিবার বেন-গভিরসহ ১ হাজার ২৫০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং তারা সেখানে প্রার্থনা, উল্লাস ও নৃত্য করেছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা ওয়াফাকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ‘রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উসকানির নজিরবিহীন মাত্রা’ ছাড়িয়েছে।

বেন-গভির ও ইহুদিদের এমন অনুপ্রবেশের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আল-আকসা প্রাঙ্গণ নিয়ে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত এবং তা পরিবর্তন হবে না।’

বেন-গভির আগেও বহুবার অল-আকসা চত্বরে ইহুদি প্রার্থনার অনুমতির দাবি জানিয়েছেন। এবারের সফরে তিনি জানান, তিনি গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় এবং ‘জঙ্গিদের’ হাতে বন্দি ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি গাজা উপত্যকা দখলের আহ্বানও পুনরায় জানান।

এর আগে আল-আকসার নিয়ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ ও সহিংসতার জন্ম দিয়েছিল। তবে রবিবারের সফরের সময় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা এই সফরকে ‘সব রকম সীমা লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, ‘বসতি স্থাপনকারীদের অপরাধ এবং চরম ডানপন্থী ইসরায়েলি সরকারের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনই হস্তক্ষেপ করতে হবে। গাজায় চলমান যুদ্ধ থামিয়ে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত