কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্বামীকে বেঁধে রেখে এক হোটেল কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার ভোরে উপজেলার মসলেমপুর এবং ষৌলদাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ভেড়ামারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাজ শেষে প্রতিদিনের মতো স্বামীর সঙ্গে ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। মসলেমপুর এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে টেনেহিঁচড়ে পাশের লিচু বাগানে নিয়ে যায়।
সেখানে স্বামীকে লিচু গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তাকে ৪ জন পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবার থানায় ফিরে আসেন ভুক্তভোগী ও তার স্বামী।
তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীর করা অভিযোগের বাহ্যিক কোনো প্রাথমিক সত্যতা পাননি বলে জানান ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গেল রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক হোটেল শ্রমিক নারী হাসপাতালে এসেছিলেন; তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
যেহেতু রোগীর শরীরের বাহ্যিক কোনো ক্ষত বা উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের আলামত ছিল না সে কারণে আনীত অভিযোগের অধিকতর সত্যতা প্রমাণের জন্য রোগীকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে’।
তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই রোগী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এসে পৌঁছাননি বলে জানান আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম।
ভেড়ামারা থানার ওসি (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম জানান, ‘শনিবার রাতে এক নারী হোটেল শ্রমিক তার স্বামীর সঙ্গে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এমন অভিযোগ এনে চারজনের নাম উল্লেখসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন। এই মামলার এজাহার নামীয় ৫ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।
