কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আলাউদ্দিন (৫৫) নামের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ৩৬ ঘন্টা পর মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল এ তথ্য জানিয়েছেন নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক। তিনি বলেন, নিহত ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে নিহতের ছেলে বাদি হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনাম আরও ৮-১০ জন আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে আলাউদ্দিন মেম্বারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার গোষ্ঠীর লোকজন আবুল খায়ের গোষ্ঠীর লোকজনকে দোষারপ করে অন্তত ২০টি বাড়ি ঘর ভাংচুর ও ১০টি ঘর অগ্নি সংযোগ করে।
নিহত আলাউদ্দিন উপজেলা বক্সগঞ্জ ইউপির সাবেক সদস্য ও আলীয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন মৃত সুরুজের ছেলে।
উল্লেখ্য, রবিবার সারে ১২টার দিকে আলাউদ্দিন মেম্বার তার চাচাতো ভাই আবুল বাশারের জানাজার নামাজ শেষে আলিয়ারা গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে এলে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে আলাউদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের খবর পেয়ে আলাউদ্দিন মেম্বারের ভাগিনা তারেক ও ডা. আনোয়ার সন্ত্রাসীদের পিছু ধাওয়া করে উপজেলার চাঁন্দাইশ গ্রামের আবুল খায়ের মাস্টারের বাড়ির সামনে এসে হাত-পা বাঁধা ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে আলাউদ্দিন মেম্বারকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর একটি গরু আবুল খায়ের গোষ্ঠীর জমির ঘাস খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি হয়। এরপর ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোকজন আবুল খায়ের গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় দুই পক্ষ থানায় চারটি এবং আদালতে একটি, মোট পাঁচটি মামলা করে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে পুলিশ শেখ ফরিদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোক বলে জানা গেছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা চরমে ওঠে।
শেখ ফরিদের গ্রেপ্তারের পর দিন শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে উত্তর পাড়ায় জাফর আহম্মদের দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম ধাপে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন আরও ১০ জন।
এ বিষয়ে ডা. আনোয়ার ও তারেক জানান, আলাউদ্দিন মেম্বারের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা থাকায় ছালেহ আহমদ মেম্বার, শেখ ফরিদ, শহীদসহ মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। আমরা হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। এদিকে পালাতক থাকায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য পূর্ব শত্রতার জের ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক বার হামলা পাল্টা হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সকল ঘটনায় উভয়পক্ষে থানায় ৬ টি আদালতে ৪ টিসহ ১০ টি মামলা রয়েছে।
