বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

বিশ্ববাজারে সোনার দামে সামান্য হ্রাস পরিলক্ষিত হয়েছে। গত সপ্তাহে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যা এই দরপতনের অন্যতম কারণ। গত সোমবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩,৩৫৯.৯৯ ডলারে স্থির হয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩,৪১৩.৪০ ডলারে পৌঁছেছে, যা বাজারের মিশ্র প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি সোনার দাম হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সুদহার বৃদ্ধি সাধারণত সোনার মতো অলাভজনক সম্পদের আকর্ষণ কমায়, কারণ বিনিয়োগকারীরা বন্ডের মতো লাভজনক বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রধান ওলে হ্যানসেন ব্যাখ্যা করেন, ‘গত শুক্রবার সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পর এই দরপতন স্বাভাবিক। বর্তমানে সুদহার কিছুটা বেড়েছে এবং শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যা সোনার দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।’ তিনি জানান, সোনার দাম বর্তমানে সীমিত পরিসরে ওঠানামা করছে। যদি দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৪৩০ ডলারের ঊর্ধ্বে যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের ক্রয়প্রবণতা বাড়তে পারে, যা দামকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩৭.৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১,৩২০.১৯ ডলারে স্থির হয়েছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,২০৫.৯৩ ডলারে নেমেছে। এই ধাতুগুলোর দামের ওঠানামা বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগসংক্রান্ত গতিশীলতার প্রতিফলন।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানায়, এই বৃদ্ধির পেছনে ডলারের বিনিময় হার হ্রাস, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের বাড়তি চাহিদা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি অন্যতম কারণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত