রোনালদো-মেসি যুগ শুরুর বহু আগে, ইউরোপীয় ফুটবলে একটি উজ্জ্বল নাম ছিল টমাস ব্রোলিন। ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন রোবের্তো বাজ্জিও, পাওলো মালদিনি, ঘিওর্গি হাজি-র মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে। ১৯৯৪ সালে, সেই বছরই যখন বার্সেলোনার হ্রিস্তো স্টইচকভ ব্যালন ডি’অর জেতেন, ব্রোলিন যৌথভাবে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন।
সেই সময় সিরি আ’র ক্লাব পার্মা-তে ঝলসে উঠছিলেন ব্রোলিন। ১৯৯২ সালে কোপা ইতালিয়া জিতিয়েছিলেন ক্লাবকে। ১৯৯৩ সালে জিতেছিলেন কাপ উইনার্স কাপ ও সুপার কাপ। ১৯৯৫ সালে পেয়েছিলেন উয়েফা কাপ জয়ের স্বাদ।
ইতালিতে পাঁচ বছরে তার গোল সংখ্যা ছিল ৩০টি এবং অ্যাসিস্ট ছিল ১৬টি। জাতীয় দল সুইডেনের হয়েও ছিলেন নায়ক। বিশেষ করে ইউরো ১৯৯২-তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার জয়সূচক গোল এখনও সুইডিশ সমর্থকদের মনে গেঁথে আছে। স্টকহোমের গর্জন তোলা ভিড়ের সামনে সেই গোল সুইডিশ ফুটবলের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এই সাফল্য তাকে ১৯৯৫ সালে নিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেড-এ। কিন্তু সেখানে সবকিছু দ্রুত খারাপ দিকে মোড় নেয়। লিভারপুলের কাছে ৫-০ ব্যবধানে হারের পর ব্রোলিনের সঙ্গে কোচ হাওয়ার্ড উইলকিনসন-এর সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়, বিশেষ করে ডিফেন্সে ব্রোলিনের অবদান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে। লিডসের হয়ে তিনি মাত্র ২৫টি ম্যাচ খেলেন, এরপর তাকে ধারে ছেড়ে দেওয়া হয় সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এবং পরে আবার পার্মা-তে।
১৯৯৮ সালে তিনি ক্রিস্টাল প্যালেসে স্বল্প সময়ের জন্য খেলেন, এরপর দেশে ফিরে গিয়ে ছোট ক্লাব হুদিকসভালস এফএফ-এর হয়ে কিছুদিন মাঠে নামেন। সেই বছরই তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেন।
২৮ বছরেই বিদায়, নতুন জীবন শুরু
অল্প বয়সে খেলা ছেড়ে মিডিয়ার আড়ালে চলে যান ব্রোলিন। গড়ে তোলেন ব্যবসা। একজন উদ্ভাবক তার কাছে একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার তৈরির ধারণা নিয়ে এলে ব্রোলিন সেই পণ্য বাজারে নিয়ে আসেন এবং এটি সফলভাবে বিক্রি শুরু করেন। ব্রোলিন জানান, "আমার মাথায় তখন অনেক নতুন পরিকল্পনা ছিল। খেলাধুলা ছাড়ার পরপরই এক উদ্ভাবক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার আইডিয়া নিয়ে আসে, আমি সেই কোম্পানি খুলি। যদি ডিসেম্বরে মনে হতো আবার খেলতে চাই, তাহলে ফিরতাম। কিন্তু সে অনুভূতি আর আসেনি। এখন তো ২০ বছর হয়ে গেছে। সবাই বলে ২৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়া খুব তাড়াতাড়ি, কিন্তু আপনি ২৮ বছর বয়সে কী করেছেন, সেটাই আসল কথা। আমি অনেক কিছুই করেছি।"
ব্রোলিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম টুইনার সুইপার।
লিভারপুলের দারউইন নুনেজকে সাড়ে ৭শ' কোটি টাকায় কিনছে আল হিলাল