মার্কিন প্রশাসনের সর্বশেষ শাস্তিমূলক শুল্ক বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী পোশাক এবং টেক্সটাইল শিল্পকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছে পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক তিনটি সংগঠন। তাদের মতে, শুল্ক আরোপের ফলে শিল্প, শ্রমিক এবং এ খাতের স্থায়িত্বকে ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী পোশাক খাতকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তবে সংকট মোকাবিলায় তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। বিশ্লেষকরা এ উদ্যোগকে করোনা মহামারীর সঙ্গে তুলনা করে একে বর্তমান সময়ের মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ৪ আগস্ট এ-সংক্রান্ত বিবৃতি দিয়েছে পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশন (আইএএফ); সাসটেইনেবল টেক্সটাইল অব দ্য এশিয়া রিজন (এসটিএআর) এবং সাসটেইনেবল ট্রাম অব ট্রেড ইনিশিয়েটিভ (এসটিটিআই)। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
শুল্ক বিষয়ে স্টার নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ও আইএএফের বোর্ড সদস্য ফজলি শামীম এহসান বলেন, শুল্ক আমেরিকানসহ সবার ক্ষতি করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্রয় আদেশের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অবশ্যই আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।
শুল্কের এ ধাক্কা সরবরাহকারীরা সহ্য করতে পারবেন না উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সরবরাহকারীরা খুব কম মার্জিনে (লাভে) কাজ করেন, তাদের জাতীয় নিয়ম অনুসারে মজুরি নির্ধারিত হয় এবং উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ এবং পণ্য সরবরাহের জন্য তাদের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুল্কে কর এই ধাক্কা তাদের ওপর চাপিয়ে দিলে উৎপাদন মান, মজুরি এবং বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা টেকসই কর্মপরিবেশের অগ্রগতি নষ্ট হতে পারে। এতে সরবরাহকারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি তাদের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সর্বস্তরে ঝুঁকি তৈরি হবে।
এর থেকে উত্তরণে দায়িত্বশীল ক্রয় অনুশীলন করার জন্য কৌশলগত, সহযোগিতামূলক বাণিজ্য নীতি বজায় রাখতে উৎপাদক, ব্র্যান্ড এবং খুচরা বিক্রেতাদের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৭ আগস্ট থেকে আমেরিকার আমদানি করা বেশির ভাগ পোশাকের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই দেশকে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে। তবে নতুন শুল্ক গত ২ এপ্রিলে ঘোষিত শুল্কের চেয়ে কম, তবু এটি উৎপাদক ও ক্রেতাদের ব্যয়ের অতিমাত্রায় বৃদ্ধি করবে, যা কারখানার ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরির অনিশ্চয়তা এবং কর্মপরিবেশের অগ্রগতিকে আরও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।
বিবৃতিতে একটি অংশে মার্কিন শুল্ককে সাহায্যের চেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পোশাক ও বস্ত্র খাত বিশ্বের অন্যতম বিশ্বায়িত শিল্প, যেখানে সাড়ে ৭ কোটির বেশি লোকের কর্মসংস্থান। যার বেশিরভাগই নারী। আরোপিত শুল্কের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ ও দেশীয় (মার্কিন) শিল্পকেও শক্তিশালী করবে না। এর বিপরীতে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পোশাকের দাম বাড়ানো, যা দেশটির নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে প্রভাবিত করবে; কোম্পানিগুলোর বিক্রয় এবং লাভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে; উৎপাদকরা তাড়াহুড়ো করে এবং অস্থিতিশীল উপায়ে উৎপাদন করার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে পোশাকের মানের দুর্বলতা দেখা দেবে; পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য শ্রম এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি চলমান প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করবে; উৎপাদনকারী দেশগুলোয় শ্রমিকদের চাকরি হারানো এবং কারখানা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে। মার্কিন এই পদক্ষেপ করোনা সময়ের অনিশ্চয়তাকে প্রতিফলিত করছে।
