স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপদেষ্টার

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন উদ্যোগে অবদান রাখার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যখনই কোনো সংকট বা দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে, চীন একটি বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।’

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় ‘নি হাও চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মাইলস্টোন কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার পর চীন আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক দল পাঠিয়েছিল। গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায়ও চীন এগিয়ে এসেছিল। এ ছাড়া চীন সরকারের অনুদানে রংপুর অঞ্চলে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের জনগণ ও সরকারের এই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে অনেকে তাদের চোখ হারিয়েছেন, হাত হারিয়েছেন, এমনকি পঙ্গু হয়ে গেছেন। চীন আমাদের রোবোটিক হাত-পা সরবরাহ করেছে, যা আহতদের জীবনকে নতুন দিশা দিতে সহায়তা করেছে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো সহজীকরণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অটল রয়েছে। চীনা মেডিকেল ইকুইপমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।’

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন তার আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং উচ্চমানের হাসপাতাল পরিষেবার জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে একটি টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এই স্বাস্থ্য প্রদর্শনীতে চীনের ১০টিরও বেশি শীর্ষ হাসপাতাল অংশগ্রহণ করেছে। তারা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অন-সাইট ও অনলাইন কনসালটেশন, ভিসা ইনভাইটেশন লেটার ও প্রসেসিং, অনুবাদক সেবা এবং বিমানবন্দরে পিকআপ সুবিধাসহ বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত