মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। এর মাধ্যমে দেশ দুটি দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে তারা লড়েছে, এখন তারা বন্ধু, এবং অনেক দিন বন্ধুই থাকবে।’
তিনি বিশ্বাস করেন দুই নেতা একটি ‘চমৎকার সম্পর্ক’ গড়ে তুলবেন এবং এই চুক্তি এই অঞ্চলজুড়ে শান্তি এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এই সময় তার পাশে ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এই দুই মহান ব্যক্তিকে— প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান ও প্রেসিডেন্ট আলিয়েভকে এই ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরের জন্য ওয়াশিংটনে আসার জন্য অভিনন্দন জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান স্থায়ীভাবে সব যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ করতে, বাণিজ্য, ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করতে এবং একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে সম্মত হয়েছে।’
দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের মূল ছিল নাগোরনো-কারাবাখ। এটি আজারবাইজানের একটি পার্বত্য এলাকা, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা ছিলেন জাতিগত আর্মেনিয়ান। ১৯৮০-এর দশকে এই এলাকা আর্মেনিয়ার সমর্থনে আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
২০২৩ সালে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে পুরো অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়, যা ছিল আজারবাইজানের অন্তর্গত হলেও জাতিগত আর্মেনিয়ানদের দ্বারা অধিকৃত।
সেই অভিযানে খাদ্য সরবরাহ সীমিত করে এলাকাটিকে অবরুদ্ধ করা হয়, যা অনেক মানবাধিকার সংস্থা ‘যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অনাহার ব্যবহারের’ অভিযোগ তোলে। ফলে প্রায় ১ লাখ জাতিগত আর্মেনিয়ান পালিয়ে যায় আর্মেনিয়ায়।
চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ককেশাসে দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত ট্রানজিট করিডোর স্থাপনের বিশেষ অধিকার পেয়েছে, যা ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’ নামে পরিচিত হবে।
হোয়াইট হাউস জানায়, এই করিডোর জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আশা করছি, মার্কিন কোম্পানিগুলো এই দুই দেশে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আগ্রহীভাবে অংশ নেবে।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উভয় দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও করেছে।
এছাড়া, ১৯৯২ সালে আরোপিত আজারবাইজানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আলিয়েভ বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আজারবাইজানের ওপর আরোপিত পুরোনো সীমাবদ্ধতা তুলে নিয়েছেন।’
