প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ছাড়া কোনো সংস্কার স্থায়ী হবে না

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৫ এএম

গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই মধ্যে এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। ব্যাংক খাতে বেশ কিছু সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহে রিজার্ভের পালে হাওয়া লেগেছে। বৈদেশিক লেনদেন নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। সরকার প্রত্যাশার তুলনায় সফলতা অর্জন করতে পারেনি। বিনিয়োগ পরিস্থিতি নাজুক, গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহে গতি আসেনি, গতানুগতিক ধারাবাহিকতায় দেওয়া হয়েছে বাজেট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে। সর্বোপরি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে কোনো সংস্কার স্থায়ী হবে না।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিমসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, এখনই কেউ বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়বে এ প্রত্যাশা কারও থাকলে তা কাল্পনিক। তিনি বলেন, আমাকে তো স্থিতিশীলতা আনতে হবে। আর্থিক খাতে শুধু স্থিতিশীলতা এসেছে, রাজনৈতিক খাতে তো আসেনি। নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো অস্থিতিশীল। সবকিছু মিলিয়ে এখনই কেউ বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়বে এ প্রত্যাশা যদি কারও থাকে, আমি বলব সেটা কাল্পনিক।

গভর্নর বলেন, আমাকে বাস্তবসম্মত হতে হবে। বিনিয়োগ পাইপলাইনে আমরা দেখতে পারছি। কিন্তু আরেকটু সময় লাগবে। সামনে নির্বাচন, এই মুহূর্তে হয়তো বড় কোনো বিনিয়োগকারী আসতে চাইবে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আসতে চাইবে না। কারণ পরবর্তী সরকার এগুলো চলমান রাখে কি না, সেটা সবাই দেখতে চাইবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা জানি যে আমরা খাদের কিনারায় ছিলাম। সেখান থেকে যদি দ্রুত ফেরত আসতে না পারি, তাহলে খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটা (আশঙ্কা) অনেক বেশি।’

গভর্নর আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ দেশের মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। চার মাস মূল্যস্ফীতি কমার পর বেড়েছে। এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন আহসান এইচ মনসুর, ‘ইনফ্লেশন কিছু কমেছে। আরও অনেক কমাতে হবে। প্রতি মাসেই যে কমবে এ ধারণা করাটাও আবার ভুল হয়। দুই-তিন মাস কমবে। আবার এক মাস বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।’

গভর্নর জানান, নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আর্থিক খাত রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা দুর্বৃত্তায়ন হবে না। আন্তর্জাতিক মানদ-ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়বদ্ধতা বাড়াতে অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডারও প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারে ভেতরের ‘শত্রু’ দমন করা হয়েছে এবং এখন দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। গভর্নর বলেন, ‘টাকা ছাপাতে ও ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। ক্যাশলেস ব্যবস্থা করলে এর পরিমাণ কমে আসবে।’

সংলাপে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত বছর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার যখন শাসনভার গ্রহণ করল, তার এক সপ্তাহ পর ১৪ আগস্ট আমরা একটা আলোচনা করেছিলাম যে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কী। তখন আমাদের অর্থনীতি বেশ বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। রিজার্ভের ধারাবাহিক পতন হচ্ছিল। টাকার বিনিময় হারের অবনমন হচ্ছিল খুব দ্রুত। সামষ্টিক অর্থনীতি অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। উচ্চমূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব বাড়ছিল, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমছিল। এমন একটা অবস্থায় ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট সিপিডির পক্ষ থেকে এসব চ্যালেঞ্জের কথা বলি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে। অর্থ পাচারে গভর্নরদের দায় দিয়ে তিনি বলেন, ১৬টি ব্যাংক ও ৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে বেক্সিমকো। জনতা ব্যাংক থেকেই ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। কোথাও শুনেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পালিয়ে যান? তিনজন গভর্নরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি গরিবের গভর্নরও পালিয়ে গেছেন। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতির উন্নতিতে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে শ্রম উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা এক বছরে হয়তো কিছুই করতে পারিনি। কিন্তু দেখেন এখন তো কাউকে গুম করা হচ্ছে না। সর্বোচ্চ বলা হয় ফ্যাসিবাদের দোসর। এটা কি পরিবর্তন না।’ ব্যর্থতার দায় সবার জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হলে, এই ব্যর্থতা শুধু সরকারের একার নয়; এই ব্যর্থতা সবার। যেসব গভর্নর টাকা পাচারসহ নানা অপকর্মে জড়িত, তাদের বিচার আমরা করতে পারলাম না। নির্বাচিত সরকার কি বিচার করতে পারবে? আমি জানি না।’

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য জরুরি ভিত্তিতে জটিল নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, একটি রেস্টুরেন্ট চালু করতে হলে ১৯টি অনুমতি নিতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো বিনিয়োগকারী উৎসাহিত হবে না।

আমীর খসরু বলেন, সিরিয়াস ডিরেগুলেশন ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক মুক্তকরণ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে না, অর্থনীতিও চাঙা হবে না। সরকারের অনেক দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। ট্রেড বডিগুলোর হাতে অনেক কার্যক্রম তুলে দিয়ে সরকারকে নির্ভার করতে হবে। যত বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তত বেশি দুর্নীতি বাড়বে।

তিনি বলেন, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি অনেক নিচের দিকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিনিয়োগ না আসায় তাদের দোষ নেই, কারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করাই হবে বড় পদক্ষেপ।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যে দেশগুলো দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরেছে, সেখানে স্থিতিশীলতাও দ্রুত এসেছে। চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হয় না। গণতন্ত্র মানে অন্যের মতামত শোনা ও সম্মান করা। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে কাক্সিক্ষত সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি ট্রানজিশন বা অন্তর্বর্তী সরকার, যার প্রধান দায়িত্ব জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ‘যেখান থেকে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, সেখান থেকেই পুনরুদ্ধার করতে হবে। জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে বিএনপি প্রথম দিন থেকেই কাজ শুরু করবে। ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সবাইকে এক জায়গায় আসতে বাধ্য করা বাকশালের আদর্শ। কিন্তু আলাদা দর্শন মেনে নিয়ে ঐকমত্য গড়তে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গঠিত টাস্কফোর্স যেসব সুপারিশ করেছিল, তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। শ্রম খাত, গণমাধ্যম, নারী ও স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখছি না। আর শিক্ষায় তো কমিশন হয়নি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘গভর্নর বলে গেলেন বিপদের সময় জনশক্তি ও গার্মেন্টস খাত তাদের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, গত ৩৬৫ দিনে আমাদের জন্য কী করেছেন? অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টেক্সটাইল খাতে করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। ফিনিশড প্রোডাক্ট আসবে শুল্ক ছাড়া, কিন্তু কাঁচামাল, তুলায় ২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তার ওপর চাঁদাবাজ তো আছেই। গ্যাস ও বিদ্যুৎ নেই। গত ৩৬৫ দিনে ম্যাজিকেল আমি কিছু দেখতে পাইনি। আমি গঠনমূলক সমালোচনা করছি, এটাকে তিরস্কার ভাববেন না।’

তিনি বলেন, ‘জনশক্তির জন্য কোনো ট্রেনিং সেন্টার করেছেন? মালয়েশিয়া দেখেছি ভারতীয় দক্ষ শ্রমিক যারা নিজের দেশ থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসে বেশি বেতনে কাজ করছে। আমাদের শ্রমিক ঘরমোছার কাজ করে নিম্ন বেতনে। বাজেটে ওই সেক্টরের জন্য কিছুই রাখেনি। আমার সেক্টরে ১ হাজার ৮৫০টি কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে ৩৬৫ দিনে ১ হাজার ৮৫১টি হয়নি, বরং কিছু কমেছে। এটাই বাস্তবতা। পলিসি সংস্কার হয়নি।’

ব্যাংক লুটপাট প্রসঙ্গে শওকত আজিজ বলেন, লুটপাটে যে ব্যাংক নষ্ট হয়ে গেছে, তাকে আবার কেন টাকা দিচ্ছেন? আপনি গ্রাহককে টাকা দিয়ে ওই ব্যাংক বন্ধ করে দেন। চোরগুলোকে কেন টাকা দিচ্ছেন, চোরের মালিকানা কিন্তু কখনই নষ্ট হবে না। আবার ছোবল মারবে। ওই ব্যাংক বন্ধ করে ভালো ব্যাংকের শাখা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান ঠিক রাখতে পারেন। তাতে সবাই খুশি হবে। ছোট একটি দেশে এতগুলো ব্যাংক সত্যিই অবাক করার মতো। বাংলাদেশের মতো পারিবারিকভাবে ব্যাংক কোথাও দেওয়া হয় না। ক্রিকেটে ছক্কা মারতে পারলেই তাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, আগের সরকারের সমালোচনা করলে বলা হতো স্বাধীনতাবিরোধী। আর এখন বলা হয় ফ্যাসিবাদের দোসর। শুধু দোসর খোঁজেন, ভাশুরকে আড়াল করছেন কেন? একই পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে ভিন্ন ফলাফল আশা করেন কীভাবে?

বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে চাঁদাবাজির প্রভাব এটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। সেটা রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কেমন প্রভাব পড়ে আলোচনা করা দরকার।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্প খাতের কোনো সংযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এএসএম আমানুল্লাহ। তার মতে, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষার্থী তৈরি করছে।’ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকার এক কলেজে পরিদর্শনে গিয়ে এমনও দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে বসে এআই ব্যবহার করে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রিন্সিপাল বসে চা খাচ্ছেন।’

সংলাপে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পদ্ধতি ও পাঠ্যক্রমে শিক্ষা ও শিল্পের সংযোগ প্রায় শূন্য। তারপরও এটা নিয়ে কেউ কথা বলেন না। কারণ, দেশে বড় বড় কোম্পানিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীর প্রয়োজন আছে। এসব শিক্ষার্থী দক্ষ নন, তাদের উচ্চাকাক্সক্ষাও কম। এজন্য তাদের সহজে ম্যানিপুলেট করা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ব্যবহার করা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত