চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে হিলি স্থলবন্দরের আবেদন

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪২ এএম

দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক করা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা আমদানির অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলেই তারা এলসি খুলবেন। ফলে আজ মঙ্গলবার বা আগামীকাল বুধবার থেকে চাল আমদানি শুরু হতে পারে। আমদানিকৃত চিকন চাল ৬৭ থেকে ৭০ এবং মোটা চালের দাম ৫০ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে আমদানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ধাপে গত রবিবার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চাল আমদানির জন্য দেশের ২৪২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টন চাল আমদানির বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিদ্ধ চাল ৪ লাখ ৬১ হাজার আর আতপ চাল রয়েছে ৩৯ হাজার টন। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১ লাখ টন চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ পেয়েছেন হিলি বিরামপুর দিনাজপুরসহ আশপাশের আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক ওবায়দুর রহমান বলেন, সরকার দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দিতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু করে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সেই আবেদন জমা প্রদানের সময়সীমা ছিল। সারা দেশের মতো হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। রবিবার বিকেলে আমিসহ হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছি। এরপর সোমবার (গতকাল) আমরা চাল আমদানির অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিট আইপির জন্য আবেদন করেছি। আমদানির অনুমতি পত্র বা আইপি ইস্যু সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে ব্যাংকে এলসি খোলা হবে। এলসি খোলা সম্পন্ন হলেই ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হবে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হলে দেশে যে মিলাররা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল, সেটি কমে আসবে। আমদানি শুরুর খবরেই ইতিমধ্যে দাম কিছুটা কমেছে। চাল দেশে প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৮ টাকা করে দাম কমে যাবে। ভালোমানের চিকন জাতের চাল ৬৭ থেকে শুরু করে ৭০ টাকার মধ্যে থাকবে। স্বর্ণা জাতের চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে থাকবে বলেও জানান তিনি।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য এরই মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনেক আমদানিকারককে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া অনেক আমদানিকারক কৃষি মন্ত্রণালয়ে চাল আমদানির অনুমতি ইমপোর্ট পারমিট চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আইপি ইস্যু হয়নি। আইপি ইস্যু হলে আমদানিকারকরা এলসি খুলে চাল আমদানি করতে পারবেন। চাল আমদানি শুরু হলে সেসব চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত সনদ দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত ছাড় করা যায়।

বেশ কিছুদিন ধরে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি ছিল না। পাশাপাশি চাল আমদানির ওপর সাড়ে ৬২ শতাংশ শুল্ক থাকার ফলে আমদানিতে পড়তা হচ্ছিল না। সর্বশেষ বন্দর দিয়ে ১৫ এপ্রিল ভারত থেকে চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে সম্পূর্ণরূপে চাল আমদানি বন্ধ ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত