পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৫ কেজি ওজনের বিরল আকৃতির একটি সামুদ্রিক পাঙ্গাস মাছ। আজ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে ট্যুরিজম পার্কসংলগ্ন এলাকায় সোহেল মাঝির খুটাজালে মাছটি ধরা পড়ে। বাজারে বর্তমানে পাঙ্গাসের কেজি মূল্য ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে হলেও, মাছটি বিক্রি না করে প্রায় ২০ জন জেলে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে খেয়ে ফেলেছেন তারা।
সোহেল মাঝি জানান, সমুদ্রের ভাটার সময় জাল টানার সময় হঠাৎ বড় মাছটি আটকে থাকতে দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন। গত চার বছরে এত বড় পাঙ্গাস তারা আর ধরতে পারেননি। সাধারণত বড় মাছ বিক্রি করা হলেও এবার সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। ভাগ নেওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—সোহেল, মোয়াজ্জেম, সোহাগ, জাহাঙ্গীর, আলামিন, মিরাজ, দিলওয়ার, শুভ, বিল্লাল, আমির, হাবিব, খোকন, আবুল হোসেন, কালাম, রাসেল, রুহুল আমিন, মাসুম, রাজু, আরিফ ও হানিফ মাঝি।
কুয়াকাটা ফিস পয়েন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির মুন্সী জানান, বড় আকৃতির পাঙ্গাস মাঝেমধ্যে ধরা পড়ে এবং এর বাজারদর ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এত বড় মাছ ভাগ করে খাওয়ার ঘটনা তিনি এই প্রথম শুনলেন।
ওয়ার্ল্ডফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, কুয়াকাটা মোহনায় ব্রাকিশ পানি থাকার কারণে পাঙ্গাস দ্রুত বেড়ে ওঠে। নদীর দূষণ ও পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে মাছের আবাসস্থল বদলাচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় মাছের প্রজনন বেড়েছে, যার প্রভাবে পাঙ্গাসের আকারও বড় হচ্ছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও কাঁটাবিহীন হওয়ায় এটি সব বয়সের মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
কলাপাড়া সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্য বিভাগের কার্যকর অভিযানে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন বেড়েছে। ফলে বড় মাছ ধরার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা জেলেদের জন্য ইতিবাচক ও লাভজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ১৫ শতাংশে আনার চেষ্টা করছে সরকার