মুন্সীগঞ্জে নদীভাঙনে বিলীন ৯ দোকান, বাজারে আতঙ্ক

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:০৭ এএম

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় পদ্মার শাখা নদীর ভাঙনে দীঘিরপাড় বাজারের ৯টি দোকানঘর বিলীন হয়ে গেছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত ভাঙনে বাজারের অলি বেপারি, আলমগীর বেপারি, এরশাদ খান ও আদু মৃধার দুটি করে দোকান এবং ফজল মোল্লার একটি দোকানঘর পদ্মার শাখা নদীতে বিলীন হয়েছে। এ অবস্থায় ২০০ বছরের পুরনো এ বাজারের ৫ শতাধিক দোকান মালিকের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে গতকাল দুপুর থেকে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।

চার বছর আগে এ শাখা নদীসংলগ্ন দীঘিরপাড় বাজারে ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছিল। সে সময় বাজারের পাশে জিও ব্যাগও ফেলা হয়। এরপর ভাঙন বন্ধ করতে ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তবে কাজে ধীরগতির কারণে গত বছরের ১১ জুলাই ভাঙনে বাজারের কামারপট্টির সাতটি দোকান নদীতে বিলীন হয়।

বাজারের ব্যবসায়ী দিদার হালদার জানান, কয়েক দিন ধরেই এ শাখা নদীতে পানি বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রবল স্রোত ও তীর ঘেঁষে ঘূর্ণাবর্ত দেখা দিয়েছে। দুটি দোকানঘর বিলীন হওয়ায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন আদু মৃধা। তার মেয়ে লিপি আক্তার (৩৫) জানান, তারা ধার করে ২০ লাখ টাকায় দুটি ঘর তুলে আড়ত হিসেবে ভাড়া দিয়েছিলেন। ভাড়ার টাকায় তাদের সংসার চলছিল। ভাঙনে দোকানঘর হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ঠেকাতে দীঘিরপাড় বাজার এলাকায় শাখা নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছেন তারা। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ২০২১ সালে নেওয়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্লক বসানোর কাজ বর্ষার পানির কারণে করা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই ব্লক বসানোর মাধ্যমে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করা হবে। জেলার লৌহজং উপজেলার খড়িয়া থেকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণের এ প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত