নিম্নমানের উপকরণে চলছে সড়কের কাজ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:২৮ এএম

মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারী-রামদাসপুর সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ও পুরনো ইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একবার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিলে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে সেই ইট দিয়েই আবার শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

মেহেরপুর এলজিইডি সূত্র জানায়, ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুর ইসলাম এন্টারপ্রাইজ। ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পার হলেও অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়নি।

শোলমারী গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, সড়কে ব্যবহৃত ইটগুলোর অধিকাংশই ভাঙা, নরম ও ব্যবহারের অনুপযোগী। এমন ইট দিয়ে সড়ক নির্মাণ হলে এই সড়কটি টেকসই হবে না বলে আশঙ্কা তাদের। তাছাড়া কাজের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি।

একই গ্রামের সোহরাব হোসেন জানান, সড়ক নির্মাণে এই দুর্নীতির প্রতিবাদ একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তে আসেননি। রাজনৈতিকভাবে ঠিকাদার নুর ইসলাম প্রভাবশালী হওয়ার কারণে অনেকে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।

রামদাসপুর গ্রামের সমাজকর্মী নাসিমুল হক বলেন, ‘ঠিকাদার ও দায়িত্বরত প্রকৌশলীর মধ্যে যোগসাজশ না থাকলে এমন অনিয়ম সম্ভব নয়। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে এমন দুর্নীতি বারবার ঘটবে।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ আলী বলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে ভাঙা ও ব্যবহার অনুপযোগী ইট দিয়ে রাস্তার কাজ হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নীরব আছেন।’

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমাকে না জানিয়েই ঠিকাদার কাজ শুরু করেছে। কখন কোনদিন লেবার লাগাচ্ছে সেটা অফিসকে অবগত করেন না ঠিকাদার। বর্তমানে একাধিক প্রকল্প চলায় সব জায়গায় নজর রাখা সম্ভব হয় না। তবে আমার সঙ্গে তার কোনো আর্থিক লেনদেন নেই।’

অভিযুক্ত ঠিকাদার নুর ইসলাম বলেন, অফিসকে জানিয়ে তিনি কাজ করেন। অফিস তার কাজ তদারকি করে এবং কাজে কোনো অনিয়ম নেই বলেই কাজ বন্ধ হয়নি।

মেহেরপুর জেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাব্বির উল ইসলাম বলেন, ‘নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, খারাপ উপকরণ সরিয়ে ভালো মানের ইট দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করতে হবে। পুনরায় খারাপ ইট দিয়ে কাজ শুরু করলে আবার কাজ বন্ধ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত