কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) শ্রমিক-কর্মচারীরা।
আজ শনিবার দুপুরে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানের মাধ্যমে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বরাবর এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ্য দাবিগুলো হচ্ছে- একই করপোরেশন, একই পে-স্কেল নীতি বাস্তবায়ন করা, কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, জরুরি ভিত্তিতে ডিপিপি বাস্তবায়ন করা, জাতীয় মজুরি কমিশনভুক্ত শ্রমিকদের ৫ শতাংশ প্রণোদণা ও ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা কার্যকর করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রমোশন, উচ্চতর গ্রেড ও ল্যাস্পগ্রান্ট বাস্তবায়ন করা এবং মাস্টার অপারেটর ও টেকনিশিয়ানদের দশম গ্রেডে পদোন্নতির হার ১৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে বৃদ্ধি করা।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানার প্রধান ফটক ও প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারি স্বায়িত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার জন্য একই পে-স্কেল থাকলেও বিসিআইসির আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহে দুইটি ভিন্ন বেতন স্কেল বিরাজমান। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী দুই তৃতীয়াংশ জাতীয় পে-স্কেল এবং এক তৃতীয়াংশ জাতীয় মজুরি কমিশনের আওতাধীন। সিইউএফএল সার কারখানায় মোট ৫৯৮ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৩ জন জাতীয় বেতন কমিশনের আওতাধীন, বাকি সবাই জাতীয় মজুরি কমিশনের অন্তর্ভুক্ত।
এতে কারখানার মূল চালিকাশক্তি সুদক্ষ অপারেটর ও টেকনিশিয়ানদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বৈষম্যপূর্ণ মজুরি স্কেলে। এ কারণে তারা সরকার ঘোষিত নানা প্রণোদনা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
তারা জানান, একই কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য দুটি বেতন কাঠামো চালু থাকায় বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদের মজুরি স্কেলে রাখা হয়েছে। কারখানার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করে। তাদের সঙ্গে এমন বৈষম্য সহ্য করা যায় না। তাই জাতীয় মজুরি কমিশনের আওতাভুক্ত শ্রমিকদের জন্য ১৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদেরও জাতীয় পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। তাদের দাবি, এটি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না। তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে যে বৈষম্য আছে তা নিরসন হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম সবুজ, কারখানার মাস্টার অপারেটর জালাল আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, ফরিদুল আলম চৌধুরী, শ্যামল কান্তি নাথ, ইউসুফ আলম খান, আনিসুর রহমান জুয়েল ও হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
এ ব্যাপারে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান শ্রমিক-কর্মচারীদের স্মারকলিপি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন
