অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে বাদী হবেন আল্লাহ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩২ এএম

অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি মানুষের সামাজিক ও নৈতিক জীবনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে দেখা যায়, যে সমাজে মানুষ পরস্পরের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, সেখানে শান্তি, আস্থা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর যেখানে অঙ্গীকার ভঙ্গ হয়েছে, সেখানে অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা জেঁকে বসেছে। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম এ বিষয়টিকে শুধু নৈতিক মূল্যবোধ হিসেবেই নয়, বরং ইমান ও দ্বীনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে কঠিন শাস্তির ঘোষণা রয়েছে। পরকালে অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে বাদী হবেন আল্লাহ।

পবিত্র কোরআনে বারবার অঙ্গীকার পূরণের প্রতি নির্দেশ এসেছে। আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘অঙ্গীকার পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল ৩৪)-এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়, অঙ্গীকার পূরণ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহর নিকট জবাবদিহির বিষয়। কোরআনের অন্যত্র মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তারা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না। অর্থাৎ মুমিনের পরিচয় শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের চরিত্র ও ব্যবহারেও সত্যনিষ্ঠা, আমানতদারি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার স্বভাব প্রকাশ পায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে এ বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মুনাফিকের নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম হলো অঙ্গীকার ভঙ্গ করা। অর্থাৎ যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, তার চরিত্রে মুনাফিকির গন্ধ বিদ্যমান। আবার তিনি ইরশাদ করেছেন, যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ইমান নেই। আর যে ব্যক্তি অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার মধ্যে দ্বীন নেই। এ কথাগুলো থেকে বোঝা যায়, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা কেবল সামাজিক অপরাধ নয়, বরং তা ইমান ও দ্বীনের সঙ্গে সম্পর্কিত এক গুরুতর অপরাধ।

অঙ্গীকার রক্ষার এ নির্দেশ শুধু ব্যক্তিগত বা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পরিসরেও প্রযোজ্য। হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ আছে, বিচার দিবসে আল্লাহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজেই বাদী হবেন, তাদের মধ্যে প্রথমজন সেই ব্যক্তি, যে অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে। এ ঘোষণা প্রমাণ করে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার পরিণাম কেবল দুনিয়ায় অবিশ্বাস ও বিশৃঙ্খলা নয়, বরং আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তিও এর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব অঙ্গীকার পূর্ণ করা মুমিনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। এটি নৈতিকতা, আমানতদারি ও সত্যনিষ্ঠার প্রতীক। প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি অর্জন করে মানুষের আস্থা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। পক্ষান্তরে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ মানুষকে করে তোলে অবিশ্বাসী, সমাজে তৈরি করে বিশৃঙ্খলা এবং আখেরাতের জন্য ডেকে আনে ভয়াবহ শাস্তি। তাই একজন সচেতন মুসলমানের কর্তব্য হলো, নিজের প্রতিটি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিকে ইমানের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে তা যথাসাধ্য পূর্ণ করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত