অবসরে গেলেও তিন অফিসে ছড়ি ঘোরান চবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইউসুফ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম

চাকরির বয়সসীমা শেষ করে অবসর নেওয়ার রীতি থাকলেও পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার। দায়িত্ব পালন করছেন রেজিস্ট্রার দপ্তরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে। তিনি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফ।

তিনি একাধারে রেজিস্ট্রার দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, পরিষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং কেন্দ্রীয় স্টোর দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে এতগুলো অফিসের দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

চাকরির বয়সসীমা শেষ হলেও গেল বছরের ২৩ অক্টোবর অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় মোহাম্মদ ইউসুফ নতুন দায়িত্ব পান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে রেজিস্ট্রার দপ্তরের পরিষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেয়।

চলতি বছর ফের রেজিস্ট্রার দপ্তরের অন্য একটি অফিসে নতুন করে দায়িত্ব পান ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফ। গত ৩০ জুন রেজিস্ট্রার দপ্তরের কেন্দ্রীয় স্টোরের উপ-হিসাব নিয়ামক মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করায় একই দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (চুক্তিভিত্তিক) মোহাম্মদ ইউসুফকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

একাধারে তিন অফিসের দায়িত্বে থাকা চবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফের চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮০ সালে। তার চাকরির বয়সসীমা শেষ হয় বহু আগে। তিনি ২০২২ সালের জুলাইয়ে অবসরে যান। পরে তার এলপিআর (অবসর কালীন ১ বছরের ছুটি) শেষ হয় ২০২৩ সালের জুন মাসে। সেই বছরই তাকে রেজিস্ট্রার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আস্থাভাজন রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ ইউসুফ। ফলে অনেকেই তাকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী অফিসার বলে সন্দেহ করেন। তবে এমন অভিযোগ নাকচ করে দেন তিনি।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ তিন অফিসের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গুঞ্জন উঠে, তিনি তার নিজের মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ১২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে সেকশন অফিসার নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফের মেয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকল প্রার্থীর মতো আমার মেয়ে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে, পরীক্ষা দিয়েছে। তার সঙ্গে আরও ২৩৮ জন প্রার্থীকে কোনো গুঞ্জন উঠেনি, বরং আমার মেয়েকে নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এসব কথা পুরোপুরি বানোয়াট। আমি তার জন্য কোনো প্রকার তদবির করেনি।

অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে কতটুকু সামর্থ্য আছে এমন প্রশ্নের জবাবে চবি ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আমি অবসরে গেলেও আমার উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজের চাপ সবসময়ই থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলে মূল বেতনের ১০ শতাংশ করে সার্ভিস এলাউন্স দেওয়ার নিয়ম আছে। তবে চবি প্রশাসন আমাকে সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। আমাকে কখনোই মূল বেতনের ১০ শতাংশ করে সার্ভিস এলাউন্স দেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফ একজন দক্ষ ব্যক্তি। তিনি অবসর নিলেও তার দক্ষতাকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছি। এটা তার জন্যে অনেক চাপ হলেও এতে বিশ্ববিদ্যালয় উপকৃত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত