টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ ফাইনালের এক বছর পর আবারও বিতর্কে জড়ালো সুর্যকুমার যাদবের সেই অবিশ্বাস্য ক্যাচ। প্রোটিয়াস ব্যাটার ডেভিড মিলারকে আউট করে ভারতের হাতে ১৭ বছর পর টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এনে দেওয়া ক্যাচটিই নতুন করে আলোচনায়। এবার বিস্ফোরক দাবি করেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার আম্বাতি রাইডু।
‘আনফিল্টার্ড পডকাস্ট’-এ রাইডু জানান, ফাইনালের সময় সম্প্রচারকারী দলের ব্যবহৃত চেয়ার ও স্ক্রিন রাখার কারণে বাউন্ডারি রোপ সামান্য পেছনে সরানো হয়েছিল। পরে চেয়ার ও স্ক্রিন সরানো হলেও রোপ আগের অবস্থানে ফেরানো হয়নি।
রাইডুর ভাষায়, “ওই সময় ওয়ার্ল্ড ফিড কমেন্টেটররা ছিলেন। বিরতির সময় সম্প্রচারকারীরা বাউন্ডারির কাছে চেয়ার ও স্ক্রিন রাখে। তখনই রোপ কিছুটা পেছনে সরানো হয়। পরে ওগুলো সরালেও রোপ আর ঠিক জায়গায় ফেরানো হয়নি। ফলে আমাদের জন্য বাউন্ডারি একটু বড় হয়ে গিয়েছিল। ওপর থেকে আমরা সব দেখতে পাচ্ছিলাম। এটা ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল।”
ফাইনালের শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ১৬ রান। প্রথম বলেই হার্দিক পান্ডিয়ার ফুল টসকে লং–অফের দিকে আছড়ে মারেন মিলার। প্রায় নিশ্চিত ছয় মনে হচ্ছিল। কিন্তু সুর্যকুমার দৌড়ে গিয়ে নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে ক্যাচটি হাতে নেন, পায়ের ভেতরের অংশ রোপ ছুঁলেও বাইরে পড়েননি। মিলারের (২১) উইকেট সেই মুহূর্তেই ভারতের জয়ের পথ খুলে দেয়।
তখনও দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থক ও সাবেক ক্রিকেটাররা অভিযোগ করেছিলেন, বাউন্ডারি রোপ আগের অবস্থানে ছিল না, কয়েক ফুট ভেতরে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে তারা এ অভিযোগ তুলেছিলেন।
আইসিসির নিয়ম কী বলে?
আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, বাউন্ডারি নির্ধারণ করে মূল কুশন, সাদা দাগ নয়। নিয়ম ১৯.৩ অনুসারে, কোনো কারণে বাউন্ডারি সরানো হলে সেটিকে আগের অবস্থানেই ধরা হবে। আর ১৯.৩.২ বলছে, খেলার সময় বাউন্ডারি সরলে বল ডেড হলে তা সঙ্গে সঙ্গে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
বার্বাডোসের সেই ফাইনালে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে তোলে ১৭৬/৭। জবাবে ডি কক (৩৯) ও স্টাবস (৩১) আফ্রিকার ইনিংস টেনে নিলেও শেষদিকে সুর্যকুমারের সেই ক্যাচেই গড়ায় নাটকীয় সমাপ্তি। মিলারের উইকেটের পর ৭ রানের জয় পায় রোহিত শর্মার ভারত, ভাঙে ১৭ বছরের অপেক্ষা।
ভারতের এশিয়া কাপ দল ঘোষণা; সূর্যের ডেপুটি হয়ে ফিরলেন শুবমান