এনবিআরের ১৭ কর্মকর্তার সম্পদের  হিসাব চাইবে দুদক

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শীর্ষ ১৭ কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

দুদক মহাপরিচালক জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬(১) ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর ১৭ নম্বর বিধির আলোকে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী তাদের সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

যাদের সম্পদের হিসাব চাওয়া হবে, তারা হলেন এনবিআরের সদস্য মো. লুৎফুল আজিম, সদস্য (আয়করনীতি) এ কে এম বদিউল আলম, এনবিআরের সিআইসির সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন, এনবিআরের যুগ্ম কমিশনার মো. তারিক হাছান, কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কু-ু, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (পূর্বাঞ্চল) কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, রেলওয়ে কাস্টমসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়া, কর অঞ্চল ১৬-এর উপকর কমিশনার মো. শিহাবুল ইসলাম, কর অঞ্চল ৮-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, বিসিএস কর একাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মো. মোরশেদ উদ্দিন খান, কর অঞ্চল-১৬-এর উপকর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা, ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান তারিক রিকাবদার, অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সাহেলা সিদ্দিক, কর আপিল ট্রাইব্যুনালের কমিশনার লোকমান আহমেদ এবং কর কমিশনার (কর অঞ্চল-৩) এম এম ফজলুল হক।

দুদকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল দুদক। ওই সময় দুদকে জমা করা অভিযোগে বলা হয়েছে, এনবিআরের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে করদাতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও এনবিআরের কর্মকর্তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ কর আদায় না করে তাদের করের পরিমাণ কমিয়ে দিতেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিবছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ঘুষ না পেয়ে কর ফাঁকি দেওয়ার মিথ্যা মামলা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মালিককে হয়রানি করেন। অনেক করদাতা আগাম কর দেন। আবার কেউ কেউ বেশি কর দেন। নিয়ম হচ্ছে, এই হিসাব-নিকাশ করার পর বেশি দেওয়া হলে তা ওই করদাতাকে ফেরত দিতে হয়। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, করের বাড়তি টাকা ফেরত পেতে অন্তত অর্ধেক টাকা ঘুষ বা উপহারে খরচ হয়ে যেত। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তারা করের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে নিজেরাও কামিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্টেশনে চাকরিকালে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক, ভ্যাট ও ক্ষেত্রবিশেষে আয়কর ফাঁকির সুযোগ করে দিয়ে এবং নিজে লাভবান হয়ে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে দুর্নীত, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

গত ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশ জারির পর প্রায় ১৪ দিন আন্দোলন করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে সরকারের আশ্বাসে বাজেট পেশ হওয়ার আগে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। পরে একই দাবিতে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে কর্মসূচি শুরু করা হয়। গত ২৯ জুন ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই আন্দোলন শেষ হওয়ার পর থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত