অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. নওশাদ আলী মামলাটি করেন।দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হেলাল আকবর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে।’
দুদক কর্মকর্তারা জানান, হেলাল আকবর ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে ২০২২ সালে নোটিস দেয় দুদক। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে হেলাল আকবর চৌধুরী ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং নিজ নামে ৮৮ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) এবং ২৭ (১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। অপরদিকে, জেসমিন আক্তার সম্পদ বিবরণী দাখিলের সময় ২ কোটি ১০ লাখ ১৮ হাজার ৪২০ টাকা স্থাবর এবং ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দিয়েছিলেন।
সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী তার মোট সম্পদ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪২০ টাকা। তবে দুদক সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে জেসমিনের মোট সম্পদ পেয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ ২৯ হাজার টাকার। অর্থাৎ তিনি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৮০ টাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন।
জেসমিন আক্তারের আয়কর নথিতে দেখা যায়, তিনি মোট ২ কোটি ৬৬ লাখ ৫০০ টাকা আয় করেছেন। তবে আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দুদক গ্রহণযোগ্য আয় পেয়েছে মাত্র ৮৬ লাখ ৪৫ হাজার ১২০ টাকা। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় জেসমিনের নামে ২ কোটি ৫০ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। তার পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদ ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার। অর্থাৎ ১ কোটি ৮৩ লাখ ৯ হাজার ৮৮০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। সেই হিসাবে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ জেসমিন আক্তারের মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা।
