ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা 

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৪৪ এএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বক্সগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়টি বর্তমানে ভবন সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ-জরাজীর্ণ ভবনে চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি এক সময় ছিল শিক্ষার আলো ছড়ানো একটি নাম। দেশের নানা স্থানে এ বিদ্যালয়ের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী উচ্চপদে কর্মরত আছেন। অথচ আজ সেই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ হারাতে বসেছে তার গৌরব।

বিদ্যালয়টির দুটি পুরনো ভবন এখন সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়ছে ধ্বংসস্তূপ। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ক্লাস পরিচালনাই দুরূহ হয়ে ওঠে। ভবন দুটির দরজা-জানালা ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে। ফলে খেলাধুলাসহ স্বাভাবিক শিক্ষাক্রম ব্যাহত হয়।

বিদ্যালয়ে নেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, নেই পর্যাপ্ত বাথরুম কিংবা ছাত্রীদের জন্য কমন রুম। নেই সীমানাপ্রাচীরও। বিজ্ঞানাগার, পাঠাগার ও কম্পিউটার ল্যাবের অবস্থাও জরাজীর্ণ। বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরও রয়েছে তীব্র ঘাটতি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের জায়গাটি খালের পাড়ে হওয়ায় প্রতি বর্ষায় পেছনের অংশ ভেঙে যায়। এতে আরও ঝুঁকিতে পড়েছে স্কুলের অবকাঠামো।

এ বিষয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র সিরাজুল ইসলাম জানায়, ‘বক্সগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের বিপাকে পড়তে হয়। কখন যে ছাদের পলেস্তারা মাথায় পড়ে তা নিয়ে আতঙ্কে থাকি। তাই আমরা দ্রুত বিদ্যালয়টির ভবনসহ সব সমস্যা সমাধানের দাবি জানাই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আশরাফ বলেন, ভবন সংকট এবং অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘প্রাচীন এই বিদ্যালয়ের অবস্থা যে রকম হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি। শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিন সরকার বলেন, ‘বক্সগঞ্জ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত