চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অন্যতম প্রকল্প চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের আওতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়াতে একমত হয়েছে চীন ও পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের মাধ্যমে নতুন প্রকল্প শুরু করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। তবে এই প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
চীনের ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ উদ্যোগের আওতায় বিশ্ব জুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক, রেলপথ ও বন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে চীন, আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। এই উদ্যোগ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা চীনকে বিশ্ব রাজনীতিতে বৃহত্তর ভূমিকা পালনে সহায়তা করছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের মাধ্যমে চীন ইতিমধ্যে পাকিস্তানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই অর্থে সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেল সংযোগ নির্মাণ করে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশকে পাকিস্তানের আরব সাগরের গদর বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে কিছু চীনা নাগরিক বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হয়েছেন।
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ও কৃষি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেছেন।
চীন দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের প্রধান মিত্র ও ঋণদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করছে, বিশেষত যখন ইসলামাবাদ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, তখন বেইজিং সহায়তা দিয়েছে।
এই বৈঠকের একদিন আগে ওয়াং ই ও ইসহাক দার কাবুলে আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপে অংশ নেন। তার আগে ওয়াং ই ভারত সফর করেন।
