বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় উত্তর-পশ্চিম জালিঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রনজিত মিস্ত্রি ও ক্লাস্টার অফিসার কিরণ হাওলাদার এর সমন্বয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস।
জানা যায়, ২৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ধানের বীজতলা তৈরির সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় সাংবাদিকরা। প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন এবং অফিস কক্ষে ঢুকিয়ে আটকে রাখেন। এ সময় আরটিভির পাথরঘাটা প্রতিনিধি তাওহীদুল ইসলাম শুভ শারীরিকভাবে আহত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মাঠে ধানের বীজতলা করার কারণে তারা আর খেলাধুলা করতে পারছে না। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ঘুমানো, মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা এবং শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করার অভিযোগও তুলেছে তারা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ বলেন, পাথরঘাটার একটি বিদ্যালয় মাঠে ধানের বীজতলা করায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে আমি নিজে ওই স্কুলে গিয়ে এর সত্যতা পাই। পরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে তথ্য চাইলে তিনি আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। পরে শিক্ষক খায়রুল আলম রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। সে সময় আমার ডান পা রুমের ভিতরে ছিল, পরে তিনি তার গায়ের জোরে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করে। আমার পা ভিতরে থাকার কারণে একটু আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই, পরে এ বিষয়টি আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানাই।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। প্রথম আলো প্রতিনিধি ও পাথরঘাটা প্রেসক্লাব সভাপতি আমিন সোহেল বলেন, সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় লাঞ্ছিত করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমার দেশ প্রতিনিধি ও মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি জাকির হোসেন খান বলেন, যেখানে অনিয়ম দুর্নীতি, সেখানেই সাংবাদিক যাবে। আর সেই দায়িত্ব
পালনকালে লাঞ্ছিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সালেহ জসিম বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে সাংবাদিকের ঘুম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং শারীরিকভাবে আঘাত করা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও নিউজ ২৪ এর সাংবাদিক সুমন সিকদার বলেন, সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন শিক্ষকের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার খুবই দুঃখজনক। একজন শিক্ষক কখনোই কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ব্যবহার করতে পারেন না। দাবি থাকবে এর যেন সঠিক তদন্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এন টিভির জেলা প্রতিনিধি সোহেল হাফিজ বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এরকম আচরণ কোন ভাবেই কাম্য নয়। এর আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এছাড়াও চ্যানেল ২৪ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ, সমকাল প্রতিনিধি ইমাম হোসেন নাহিদ, যুগান্তর প্রতিনিধি মোস্তফা চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম খোকন, বাংলা ভিশনের প্রতিনিধি সহিদুল ইসলাম স্বপ্ন, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল মিরাজ, স্টার নিউজ ও জাগো নিউজ প্রতিনিধি নূরুল আহাদ অনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
দেশের দুর্নীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ভালো মানুষের অভাব