মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

'কয়েকজন শিক্ষক ক্লাস না নিয়ে অফিসে বসে আড্ডা দেন'

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৫:২৭ পিএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক মো. রুনেল আহমদ, মাসুক মিয়া, মুহিদ আহমদ, সাহেদা আক্তার ও পলি বেগম। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং রয়েছেন ৭ জন শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, স্কুলে দেরিতে আসা-যাওয়া, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করানো, ক্লাস চলাকালে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ব্যক্তিগত কাজে বাইরে চলে যাওয়া—এসব অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উঠেছে।

অভিভাবকরা জানান, চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার সময় কিছু শিক্ষক ও তাদের পছন্দের অভিভাবকরা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে বা জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দিচ্ছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মুজির উদ্দিন ও রেহানা আক্তারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।

অভিভাবক রুনেল আহমদ ও মাসুক মিয়া বলেন, শিক্ষকরা সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। অনেক সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার পর আসেন। স্থানীয় হওয়ায় তারা ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়া করেন। শিক্ষার্থীদের উন্নত পাঠদানের স্বার্থে তাদের অন্যত্র বদলি করার দাবি জানাচ্ছি।

অভিভাবক পলি বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ক্লাস না নিয়ে অফিসে বসে আড্ডা দেন। নিয়মিত স্কুলে না আসায় শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরীক্ষার সময় শিক্ষক লায়লা বেগম, মুজির উদ্দিন ও রেহানা আক্তার শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেন।

সাহেদা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পড়ানো হয় না। বাড়িতে উত্তর লিখে আনার জন্য প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষার সময় শিক্ষক ও কিছু অভিভাবক সরাসরি উত্তর বলে দেন। সচেতন অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে তাদের সন্তানদের ক্লাসে হেনস্তা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রজেস কান্তি দেবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত