শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৬:১১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী,সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আসা অতিথি ও বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রহণ করা কঠোর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গত বুধবার জারি করা দেশটির এক সরকারি নির্দেশনায় এমনটি প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভিসা বাতিলের প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পরই পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সে দেশে থাকা বৈধ ভিসাধারী ৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি বিদেশির রেকর্ডও খতিয়ে দেখছে তারা।

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে রয়টার্স বলছে, প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এফ ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জে ভিসা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আই ভিসার মেয়াদের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করবে। বর্তমানে এই ভিসাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্মসংস্থানের মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে এফ ভিসার আওতায় প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৩ এর ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার অতিথিকে এবং ১৩ হাজার গণমাধ্যমকর্মীকে ভিসা দিয়েছিল।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির ভিসা সর্বোচ্চ ৪ বছর পর্যন্ত থাকবে। সাংবাদিক ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন এবং চীনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৯০ দিন হবে। প্রয়োজন হলে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা যাবে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ভিসাধারীদের কার্যকরভাবে ‘পর্যবেক্ষণ ও দেখাশোনা করার’ জন্য এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে মতামত দিতে জনগণের জন্য ৩০ দিনের সময় রাখা হয়েছে।

২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষদিকে অনুরূপ প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তখন আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের সংগঠন এনএফএসএর বিপরীতে অবস্থান নেয় এবং তা বাতিলের আহ্বান জানায়। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে সেটি প্রত্যাহার করে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কেন্দ্র করে তাদের শিক্ষার্থী ভিসা ও গ্রিনকার্ড প্রত্যাহার করেছে এবং লাখ লাখ অভিবাসীর বৈধ স্থিতি বাতিল করেছে।

গত ২২ আগস্ট ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, তারা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পরিদর্শন পুনরায় শুরু করবে। এর মধ্যে থাকবে আবাসনের অবস্থা, নৈতিক চরিত্র এবং আমেরিকান মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতি যাচাই।

এর আগে চলতি মাসের ১৮ তারিখে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের তথ্য প্রকাশ করে। বাতিল হওয়া ভিসাধারীদের বিরুদ্ধে হামলা, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনপন্থি প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থীও ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিরোধী আচরণ’-এর অভিযোগ আনা হয়। তবে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত অভিযোগের বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কর্র্তৃপক্ষ ধারণা করছে, শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলও খতিয়ে দেখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বা হুমকিমূলক কোনো পোস্ট পাওয়ার ভিত্তিতেও অনেকে অভিযুক্ত হয়েছেন।

সম্প্রতি গাজাবাসীর জন্য সব ধরনের ভ্রমণ ভিসা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমিতসংখ্যক মানবিক ভিসা প্রদানের নীতি পুনর্মূল্যায়ন চলাকালে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত